Published : 28 Nov 2025, 05:09 PM
সানায়া কতুরের স্বত্বাধিকারী সানায়া চৌধুরী ডিজাইন করেছেন জেসিয়ার গাউনটি। মিস ইন্টারন্যাশনালের জন্য তিনি জেসিয়া ইসলামকে মোট ৭টি পোশাক তৈরি করে দিয়েছেন। সানায়া জানান, এই ইভনিং গাউনটি তৈরি করতে প্রায় এক মাস সময় লেগেছে। জেসিয়া মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এই পোশাকের কাজ শুরু করেন তাঁরা। পোশাকটি শরীরের গঠন অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। কালো রঙের স্লিম ফিট গাউনের উপর রুপালি রঙের গ্রিড টেক্সচার বোনা হয়েছে। প্রতিটি ডায়মন্ড ফ্রেমের কারুকাজ ঝলমল করছে। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ত্রিমাত্রিক স্কাল্পচারড শোল্ডার উইং। যা বক্ষরেখা থেকে শুরু হয়ে কাঁধের উপর ঢেউয়ের মতো উঠে পোশাকটিকে দিয়েছে এক আধুনিক স্থাপত্যিক সৌন্দর্য। টোকিওতে অনুষ্ঠিত মিস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জেসিয়াকে নিয়ে আসা এই পোশাকটি আলো-ছায়ার এক মনোমুগ্ধকর খেলা তৈরি করেছে। ফ্যাশনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে এটি।
থাই-হাই স্লিট, মিনিমাল স্ট্রাকচারিং এবং হাতে করা কারুকার্য—সব মিলিয়ে পোশাকটি একইসঙ্গে দৃঢ়, মোহনীয়, আধুনিক ও ফিউচারিস্টিক। গাউনটির মূল অংশে কালো মেশ বেসের উপর সিলভার সিকুইন গ্রিড প্যাটার্ন রয়েছে। প্রতিটি ডায়মন্ড ফ্রেমে ছোট ক্রিস্টাল ও সিকুইন বসানো হয়েছে, যা আলোতে চিকচিক করে। সানায়া বলেন, ‘গাউনটির ফেব্রিক খুবই সুন্দর। তারের কাজ করা হয়েছে এবং এটি শরীরের সাথে মানানসইভাবে তৈরি করা হয়েছে। জেসিয়া ক্রমাগত ওজন কমাচ্ছিলেন, তাই আমরা ফিটিংয়ের দিকে বিশেষ নজর রেখেছি। কোথাও যেন অতিরিক্ত কাপড় না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। ফ্লাই করার আগ মুহূর্তেও ফিটিংয়ের কাজ করা হয়েছে, কারণ তিনি অনেক ওজন কমিয়েছিলেন।’ বাংলাদেশের এই লাক্সারি ফ্যাশন ডিজাইনার আরও জানান, স্কাল্পচারাল শোল্ডারের উইং স্ট্রাকচারটি তৈরি হয়েছে মাইক্রো-প্লিটেড ব্ল্যাক অরগানজা বা স্টিফ টিউল দিয়ে। এর ভেতরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড বোনিং ও হিট-শেপড কার্ভ সাপোর্ট রয়েছে। তারের কাজ করা উইংটি ডান বুকের পাশ থেকে শুরু হয়ে পেছনে ঢেউয়ের মতো নেমে গেছে।
সানায়া যখন গাউনটি নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন ভাবেননি যে এত বড় একটা আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ এই পুরস্কার বাংলাদেশে আসবে। কীভাবে জানতে পারলেন এই সুখবর? তিনি বললেন, ‘গতকাল থেকে আমার জ্বর ছিল, তাই ফাইনাল দেখতে পারিনি। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি জেসিয়ার মেসেজ। এভাবেই প্রথম জানতে পারলাম। এরপর অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছেন।’ ‘বেস্ট ইন ইভনিং গাউন’ পুরস্কারটি মূলত গাউনের ফেব্রিকের অভিনবত্ব, নকশার সৌন্দর্য, ফিটিং এবং প্রতিযোগী কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে পোশাকটি ক্যারি করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। জেসিয়া ও সানায়ার এই সম্মিলিত অর্জন আন্তর্জাতিক বিউটি পেজেন্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর আগে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলার ইভনিং গাউনও সানায়া চৌধুরী ডিজাইন করেছিলেন।।
ডিপিডিসি প্রকল্পের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাস: সুইমিং পুল ও জিমসহ টুইন টাওয়ার নির্মাণ