Published : 13 Jan 2026, 11:07 AM
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ছে, আর এর ফলস্বরূপ ২০২৬ সালটি হতে পারে বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীর বা কোরাল রিফের বিলুপ্তির বছর। বিগত দশ বছরে পৃথিবীর প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রবাল প্রাচীরের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমরা এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা হয়তো সম্ভব নয়। প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ সামান্থা গারার্ডের মতে, আগামী এক বছরে প্রবালগুলোর যে ক্ষতি হতে পারে, তা এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ ও শীতল জলের চক্র এল নিনো প্রবাল প্রাচীরের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি আমরা একটি শক্তিশালী এল নিনো চক্রের অভিজ্ঞতা নিয়েছি, যার কারণে বিশ্বের ৮৪ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর অতিরিক্ত তাপের কারণে বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালে আরেকটি এল নিনো চক্রের পূর্বাভাস থাকায় প্রবাল প্রাচীরগুলো হয়তো এই ধাক্কা সামলাতে পারবে না।
যখন প্রবাল অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তখন তারা তাদের টিস্যুর মধ্যে থাকা রঙিন শৈবালগুলোকে ত্যাগ করে, যার ফলে প্রবাল সাদা হয়ে যায়—একে ব্লিচিং বলা হয়। যদি তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তবে প্রবাল মারা যায়। মজার বিষয় হলো, সমুদ্রের মাত্র ১ শতাংশ জায়গাজুড়ে প্রবাল প্রাচীরগুলো সাগরের ২৫ শতাংশ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল। অতীতে, উষ্ণ এল নিনো বছরের পর লা নিনা বা শীতল জলের পর্যায় আসত, যা প্রবাল প্রাচীরকে সুস্থ হওয়ার জন্য কয়েক বছর সময় দিত। কিন্তু বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো চক্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঘন ঘন হচ্ছে, ফলে জল শীতল হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এক্সিটার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম লেন্টনের মতে, ‘আমরা বর্তমানে প্রবাল প্রাচীরকে যেভাবে জানি, সেভাবে টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়।’ গত বছর ১৬০ জন বিজ্ঞানীর একটি যৌথ রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রবাল প্রাচীর ইতিমধ্যেই তাদের সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছে।
প্রাক্-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় তাপমাত্রা মাত্র ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই গণ-ব্লিচিং অনিবার্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বিজ্ঞানী গারার্ডের মতে, ২০২৬ সালে একসঙ্গে সব প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে, মিসরের আকাবা উপসাগর এবং মাদাগাস্কারের কিছু প্রবাল প্রাচীর তাপসহনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও, গভীর সমুদ্রের প্রবাল প্রাচীরগুলো শীতল জলের কারণে হয়তো কিছুদিন বেশি টিকে থাকতে পারে। প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে সমুদ্রের পানি শীতল রাখা প্রয়োজন। সূত্র: ডেইলি মেইল।
ডিপিডিসি প্রকল্পের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাস: সুইমিং পুল ও জিমসহ টুইন টাওয়ার নির্মাণ