Published : 17 Jan 2026, 09:06 AM
গত বুধবার শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য আনা এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়, তবে এই মৃত্যুর পেছনের কাহিনি সাধারণ অবহেলার চেয়েও ভয়ঙ্কর। গুরুতর অসুস্থ জমশেদ আলী ঢালী নামের এক বয়স্ক মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকার পথে ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বেরোনোর পরেই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, যা সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীবাহী গাড়িটিকে পথে বাধা দেয়। বাইরে থেকে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্স হওয়ায় চক্রটি রাস্তায় দুইবার গাড়িটি আটকে দেয়, যার ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর জীবনহানি ঘটে। চিকিৎসার প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করা মানুষটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারান। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একই ধরনের ঘটনায় পূর্বে এক নবজাতকেরও মৃত্যু হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, এই চক্রটি দিনের পর দিন মানুষের জীবন নিয়ে এমন নিষ্ঠুর খেলা চালিয়ে যেতে কী করে? স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়, তবে তা স্পষ্টতই একটি অপরাধ। কে রোগী বহন করবে, কোন গাড়ি চলবে, ভাড়ার হার কেমন হবে—এসব বিষয় জোর করে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার কারো নেই। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার একটি অংশ, এবং এখানে আধিপত্য বিস্তার করা মানে মানুষের জীবনকে পণ্যে পরিণত করা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিযোগের পরেও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শোকাহত পরিবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে, পরিবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত অভিযোগ আশা করা অবাস্তব। এই অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের উচিত ছিল স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। আগের ঘটনাগুলোতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে হয়তো আজ আরেকটি জীবন এভাবে ঝরে যেত না। আইন প্রয়োগের দুর্বলতাই এই ধরনের অপরাধকে বারবার উৎসাহিত করছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি জরুরি।
হাসপাতাল চত্বর ও আশেপাশে অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল কিভাবে হবে, তার একটি সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত। ভাড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি রোগীকে পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা যেন না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র হাসপাতালের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোগী পরিবহন এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে অব্যবস্থাপনা থাকলে চিকিৎসার সমস্ত প্রস্তুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ধরনের মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকবে।।