Published : 03 Feb 2026, 11:08 AM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার বিষয়ে পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, তাদের এই পদক্ষেপ বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর ধাক্কা বাংলাদেশের ক্রিকেটকেও লাগতে পারে। পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মুখ খুললে বিসিবির কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, কারণ আইসিসির লভ্যাংশই বিসিবির আয়ের প্রধান উৎস। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন কিছুটা কমলেও, এই ম্যাচের গুরুত্ব আর্থিক এবং কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই অনেক বেশি। সম্প্রতি এশিয়া কাপে পাকিস্তান ভারতের কাছে তিনবার পরাজিত হয়েছে। তবে, খেলার ফলাফল ছাড়াও এই ম্যাচের একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট রয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরপরই আইসিসি জানায়, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বিশ্ব ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক ধাক্কাটাই হবে সবচেয়ে বড়।
বিসিবির কর্মকর্তারাও একই মত পোষণ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ পরিচালক বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে পুরো ক্রিকেট বিশ্বই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, এবং আমাদের লভ্যাংশও কমে যাবে। আমরা এমন পরিস্থিতি আশা করিনি।’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চেয়েছিল, এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সিদ্ধান্ত হয়তো সঠিক। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তান এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন। আইসিসির সভায় তিনি বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলেছেন। অনেকে মনে করেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘আইসিসি আমাদের কথা ঠিকভাবে না শুনে যেভাবে বাদ দিয়েছে, তার একটা জবাব তো দিতেই হতো।
পাকিস্তান এখন ভারত ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা বড় ঘটনা।’ তবে, তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ায় এমনিতেই বিসিবির আর্থিক ক্ষতি হবে। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আয় কমে যাওয়ায় পৃষ্ঠপোষক এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে দেশের ক্রিকেটের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘এটা আইসিসির মূল অর্থের ভান্ডারে প্রভাব ফেলবে। আমরাও তো এর অংশীদার। কেনিয়া-উগান্ডা হয়তো এক-দুই লাখ ডলার পেয়ে খুশি, কিন্তু আমাদের অবকাঠামো তৈরি করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, আইসিসির টাকা কমে গেলে আমরা কীভাবে চলব?’ অর্থনৈতিক প্রভাবের বাইরে, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেট কূটনীতিতেও বৈরিতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এশিয়া কাপসহ ভবিষ্যৎ সফরসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করে বিসিবি। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে তারা দ্রুত এই সংকট কেটে যাওয়ার আশা রাখছে। এক বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘আলোচনার দরজা সবসময় খোলা আছে, দেখা যাক!’।
ডিপিডিসি প্রকল্পের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাস: সুইমিং পুল ও জিমসহ টুইন টাওয়ার নির্মাণ