Published : 03 Feb 2026, 09:06 PM
দেশের বিদ্যালয়গুলোর সম্প্রসারণে বিগত বছরগুলোতে দারুণ উন্নতি হয়েছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি হয়েছে এবং পাবলিক পরীক্ষায় সাফল্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এই অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী এখনো সাবলীলভাবে পড়তে struggles করছে, এবং তাদের মধ্যে গণিতের প্রাথমিক দক্ষতাও দুর্বল দেখা যাচ্ছে। তারা পরীক্ষায় পাশ করে সার্টিফিকেট পাচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারছে না। তাই, শিক্ষার্থীদের শেখার বিষয়টিকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য গঠিত পর্যালোচনা কমিটি তাদের খসড়া প্রতিবেদনে এই কথাটি উল্লেখ করেছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে শেখার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আরও চারটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রমের আধুনিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার, শিক্ষকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অনন্ত নীলিম এই খসড়া প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। আলোচনা সভায় পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক জিয়া হায়দার রহমানও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নিজস্ব পরিচিতি যেন কোনোভাবেই উপেক্ষিত না হয়।
অধ্যাপক আবরার আরও বলেন, এই প্রতিবেদন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি করা হয়নি, বরং এটি একটি সম্মিলিত আলোচনার ফসল। তিনি আরও জানান, সরকারি দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি নাগরিক সমাজভিত্তিক কার্যক্রমে ফিরে যাবেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাখাতে advocacy এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন-বিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।।
একনেকের অধীনে ৩ হাজার ৮৯০ কোটিরও বেশি মূল্যের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেল অনুমোদন