Published : 07 Feb 2026, 05:08 PM
নেপালের পোখারায় স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের। ফুটবলের ইতিহাসে নেপাল বরাবরই বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে, কিন্তু আজ সেই নেপালতেই তীরে এসে তরি ডোবালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ, আর চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ ফুটবল লড়াইয়ে বাংলাদেশ ছিল অপ্রতিরোধ্য। নভেম্বরের পুরুষ ফুটবল, গত মাসের নারী ফুটসাল, এবং এই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের লিগ পর্বে জয়—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ বদলে গেল। পোখারার এবড়োখেবড়ো মাঠের চ্যালেঞ্জের সাথে নিজেদের রক্ষণ ও গোলকিপারের ভুলগুলো বাংলাদেশের হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লিগ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকা বাংলাদেশ ফাইনালে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখতে না পারার পাশাপাশি, রক্ষণের মারাত্মক ভুলগুলো একের পর এক গোল হজম করতে বাধ্য করে।
প্রথমার্ধেই ভারতের মেয়েরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৪০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা পজিশন হারালে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান ভারতের এক ফরোয়ার্ড। তিনি আলতো করে বল বাড়ান অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমের উদ্দেশ্যে, যিনি খুব কাছ থেকে গোলপোস্টের জাল কাঁপিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে যায়। বক্সে ভারতের ফরোয়ার্ড আলভা দেবী বাংলাদেশের গোলকিপার ইয়ারজান বেগম ও এক ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে পড়ে গেলে ভুটানি রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান, এবং এলিজাবেদ লাকড়া লক্ষ্যভেদ করেন। ৬৮ মিনিটে গোলকিপার ইয়ারজানের ভুলে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের আশা। বদলি খেলোয়াড় প্রতীমার ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ারজান বল মারেন ভারতের পার্ল ফার্নান্দেজের গায়ে, এবং ফার্নান্দেজ ফিরতি শটে ফাঁকা জালে গোল করেন। আগেভাগেই হেরে বসা বাংলাদেশ ৮৩ মিনিটে হজম করে চতুর্থ গোল (গোলদাতা অন্বিতা রঘুরামন)। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন বিভাগের সর্বশেষ ৬টি আসরের ৫টিতেই চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে হওয়া ২০২৪ আসরে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ ও ভারত। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশের মেয়েরা ফাইনালের আগপর্যন্ত ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফাইনালের আগে পিটার বাটলারের দল তিন ম্যাচে ১৮ গোল করে কোনো গোল হজম করেনি। ভারত তিন ম্যাচে ৯ গোল করে ২টি গোল হজম করেছিল। এই টুর্নামেন্টটি মূলত আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছিলেন কোচ পিটার বাটলার। যদিও দলে সিনিয়র ফুটবলাররা ছিলেন না, তবে ফাইনালের এই হার কোচ এবং খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। টুর্নামেন্টে দুটি হ্যাটট্রিকসহ ৭টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার, এবং মুনকি আক্তার করেছিলেন ৪টি গোল।।