Published : 15 Feb 2026, 09:07 AM
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই গণতান্ত্রিক মহোৎসবে যোগ দিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের গ্রামের বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত করে। কিন্তু এই ঘরমুখী যাত্রার পথে পরিবহন খাতে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগের চিত্র আমরা দেখেছি, তা সত্যিই হতাশাজনক ছিল। এখন ভোট শেষ, মানুষজন কাজে ফিরে যাচ্ছে। আমরা চাই না, এই ফিরতি যাত্রায়ও তারা একই ভোগান্তির শিকার হোক। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনাগুলো আমাদের ব্যথিত করেছে। অতিরিক্ত যাত্রী এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় অনেক মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে, অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়াও, পরিবহণ মালিকদের দৌরাত্ম্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য দেখা গেছে।
কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে। তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতা বা অনুপস্থিতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ—সবক্ষেত্রেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করার দৃশ্য আমাদের দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। নির্বাচনের উন্মাদনা কমেছে, এখন শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরা। আগামী কয়েক দিন ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোর দিকে মানুষের স্রোত অব্যাহত থাকবে। এই ‘ফিরে আসা যাত্রা’কে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, দেশের সকল মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের রাস্তায় নামতে কঠোরভাবে বাধা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা বাড়াতে হবে।
টার্মিনালগুলোতে প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে, যাতে কোনো অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট খালি না হয়। মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষ তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করে ফিরে আসছে; পথে তাদের হয়রানি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তৃতীয়ত, চালকদের সচেতনতা ও ধৈর্য এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটানা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানো বা বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা রোধে মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের পর মানুষের এই ফিরতি যাত্রা যেন দুর্ভোগে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে সাধারণ মানুষের ফেরা পথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করবে।।