Published : 16 Feb 2026, 09:08 AM
বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর একটি ভালো চাকরি খুঁজে নেওয়া প্রায় সকল শিক্ষার্থীরই প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। যারা ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন অথবা ভবিষ্যতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সুখবর হলো, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরেও এখানে কাজের সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দারুণ সুযোগ রেখেছে, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ প্রশস্ত করতে পারেন। এই সুযোগটি হলো অস্থায়ী স্নাতক ভিসা (Temporary Graduate Visa)। এটি যেন শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এই ভিসার অধীনে, শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার সাথে সম্পর্কিত অথবা অন্য যেকোনো পেশায় কাজ করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে তারা অস্ট্রেলিয়ান কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। এই ভিসার দুটি প্রধান ধারা রয়েছে: ১. উচ্চশিক্ষা ধারা (Post-Higher Education Work Stream): যারা অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, তারা এই ধারার অধীনে আবেদন করতে পারেন।
২. বৃত্তিমূলক শিক্ষা ধারা (Post-Vocational Education Work Stream): যারা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (VET) বা ট্রেড কোর্স সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য। এই ভিসার অধীনে থাকার সময়কাল আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত, স্নাতক এবং কোর্স-ভিত্তিক স্নাতকদের জন্য ২ বছর, গবেষণা-ভিত্তিক স্নাতকদের জন্য ৩ বছর এবং VET স্ট্রিমের অধীনে ১৮ মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে, কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- * বয়স: আবেদন করার সময় ৩৫ বছরের নিচে হতে হবে। * সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট: কোর্স শেষ করার ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। * অধ্যয়ন: ক্রিকোস (CRICOS) নিবন্ধিত কোর্সে কমপক্ষে দুই বছর পড়াশোনা করতে হবে। * ইংরেজি দক্ষতা: আইএলটিএস, টোয়েফেল বা পিটিআই-এর মতো স্বীকৃত পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। * স্বাস্থ্য ও চরিত্র: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আপনার কোর্সটি অবশ্যই ক্রিকোস-এ নিবন্ধিত হতে হবে। অন্যথায়, ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। এই ভিসার জন্য আবেদন অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স পরিচালিত ইমিঅ্যাকাউন্ট পোর্টালের মাধ্যমে করতে হবে। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট জমা দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এই ভিসা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ণকালীন কাজের অধিকার পায়। উচ্চশিক্ষা স্ট্রিমের অধীনে যেকোনো খাতে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যায়, এমনকি স্পন্সরশিপের প্রয়োজনও হয় না। তবে, VET স্ট্রিমের গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে কাজ সাধারণত পড়াশোনার ক্ষেত্র বা সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়।।
একনেকের অধীনে ৩ হাজার ৮৯০ কোটিরও বেশি মূল্যের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেল অনুমোদন