Published : 17 Feb 2026, 09:06 PM
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে টাঙ্গাইল সদরবাসী দীর্ঘ ৩৬ বছর পর একজন প্রতিমন্ত্রী পেলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক।সুলতান সালাউদ্দিনের প্রতিমন্ত্রী হওয়াতে শুধু তাঁর অনুসারীরা নয়, পুরো টাঙ্গাইল সদর উপজেলাই যেন উৎসবে মেতে উঠেছে। ইতিপূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং এইচ এম এরশাদের মন্ত্রিসভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। বহু বছর পর সুলতান সালাউদ্দিন মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় যেন এক শূন্যতা পূরণ হলো।আজ বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিনের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তাঁর সমর্থকেরা এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। তাঁরা শহরের শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু করে পথচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন।
শহরের আকুর–টাকুরপাড়ার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে টাঙ্গাইল সদরের মানুষ মন্ত্রীত্বের আশায় ছিলেন, যা আজ পূরণ হয়েছে।স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সর্বশেষ সদর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান এরশাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এরশাদের পতনের পর তিনি মন্ত্রিত্ব হারাতে বাধ্য হন এবং কারাবন্দী হন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় সদরবাসী আশা করেছিলেন তিনি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় সুযোগ পাবেন, কিন্তু তা আর হয়নি।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সেইবার টাঙ্গাইল জেলা থেকে চারজন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও মাহমুদুল হাসান মন্ত্রী হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবুল কাশেম এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, কিন্তু কেউই মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাননি। তাই, দীর্ঘদিন পর সদরবাসী একজন মন্ত্রী পেলেন।জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক বলেন, সুলতান সালাউদ্দিনের প্রতিমন্ত্রী হওয়া শুধুমাত্র দলের জন্য নয়, সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। বহু বছর পর সদর থেকে একজন মন্ত্রী হওয়ায় সবাই খুশি। তিনি মনে করেন, সদরের উন্নয়নে সুলতান সালাউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।।
জাতিসংঘের সভাপতির পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ইঙ্গিত দিলেন ড. খলিলুর