Published : 06 Mar 2026, 11:06 PM
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তের কাছে ছবির মতো সুন্দর এক গ্রাম টোটোপাড়া। এখানে বাস করে ভারতের প্রাচীনতম জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘টোটো’ সম্প্রদায়। জনসংখ্যা কম, তাই জীবনযাত্রাও কিছুটা স্বতন্ত্র। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও письменности ছিল না। ফলে ভাষাটি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ধনীরাম টোটো কয়েক বছর আগে টোটো ভাষার জন্য একটি নিজস্ব লিপি তৈরি করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর এই অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
তবে খুব কম লোকই জানেন, এই লিপি তৈরির অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একটি গান। আরও পড়ুনগিনেস বুকে রুনা লায়লা ও তাঁর জীবনের নানান বাঁক১৭ নভেম্বর ২০২৫ ধনীরাম টোটো একটি সাক্ষাৎকারে জানান, একদিন রেডিওতে তিনি শুনছিলেন রুনা লায়লার কালজয়ী গান—‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা।’ গানটির এই লাইন তাঁর হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—অন্যান্য ভাষার মতো তাঁদের টোটো ভাষারও কেন একটি নিজস্ব বর্ণমালা থাকবে না? সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর নিরলস গবেষণা ও প্রচেষ্টা। অবশেষে তিনি টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র লিপি তৈরি করেন, যা এখন ‘টোটো-হরফ’ বা ‘তোত্বিকো আল্লাবেত’ নামে পরিচিত।অন্যদিকে, টোটো ভাষা সংরক্ষণে ভক্ত টোটো নামের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে লুপ্তপ্রায় এই ভাষাকে নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে টোটো ভাষায় শব্দ সংগ্রহ, গল্প লেখা এবং প্রাথমিক শিক্ষায় এই ভাষাটি ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পথটা এখনো কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার তোর্সা নদীর তীরে বসবাসকারী এই ছোট্ট জনজাতির সামনে ভাষা টিকিয়ে রাখার লড়াই এখনো চলমান। আধুনিক শিক্ষা, বাইরের সংস্কৃতির প্রভাব এবং কম জনসংখ্যার কারণে ভাষাটি সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও, নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে টোটো সম্প্রদায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।বিবিসি বাংলা অবলম্বনে।