Published : 13 Mar 2026, 11:07 PM
দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালীর ভেতরের দেয়াল দুর্বল হয়ে যায়, যা ধীরে ধীরে মোটা ও শক্ত হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিক মাইক্রোঅ্যানজিওপ্যাথি বলা হয়। এটি চোখ, কিডনি ও স্নায়ু – শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ধীরে ধীরে আক্রমণ করে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রথমে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, আলো দেখলে চোখে ধাঁধা লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে স্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ টের পান না। তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রতি বছর অন্তত একবার চোখের ফান্ডাস পরীক্ষা করানো জরুরি।ডায়াবেটিস কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
এর ফলে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন আসতে পারে, পা, মুখ বা শরীর ফুলে যেতে পারে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।ডায়াবেটিস স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করলে হাত ও পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব হতে পারে, জ্বালাপোড়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় পায়ে ক্ষত হলেও রোগী তা টের পান না, ফলে সংক্রমণ ও গুরুতর ঘা হতে পারে। এমনকি ডায়াবেটিক ফুট হয়ে পা কেটে ফেলতে হতে পারে। যাদের ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিস আছে, যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল আছে, ধূমপান করেন, স্থূলতা আছে অথবা যারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নির্ণয় ও জটিলতাগুলো পর্যবেক্ষণ করা উচিত। রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, তা জানতে তিন মাসের গড় শর্করা বা এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এটি বছরে তিন-চারবার করা উচিত এবং এর মাত্রা ৭-এর কম, ক্ষেত্রবিশেষে ৬.৫-এর কম রাখা উচিত। রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধের মূল উপায় হলো রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ ১৩০/৮০-এর মধ্যে রাখা জরুরি।
এক্ষেত্রে এসিই ইনহিবিটর বা এআরবি গোত্রের ওষুধ কিডনির জন্য উপকারী হতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্ট্যাটিন থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন। ধূমপান পরিহার করা উচিত। পায়ের নিয়মিত যত্ন ও পরীক্ষা করানো উচিত।ডায়াবেটিস মানেই জটিলতা অনিবার্য নয়। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতনতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।ডা. মো. তালহা চৌধুরী, পরামর্শক, ফ্যামিলি মেডিসিন, চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্য জনগণের, কোনো একক গোষ্ঠীর নয়: তথ্যমন্ত্রীর বার্তা