Published : 17 Mar 2026, 11:07 AM
গোলপোস্টের নিচে তাঁর রাজত্ব ছিল দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি। সেই চওড়া কাঁধ, শান্ত অথচ দৃঢ় চাহনি—আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরকাল। সের্হিও রোমেরো, যাঁকে সকলে ‘চিকিতো’ নামেই চেনেন, অবশেষে ইতি টানলেন পেশাদার ফুটবল জীবন থেকে। ৩৯ বছর বয়সে এসে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক গ্লাভসজোড়া তুলে রাখলেন। তবে মাঠের খেলা শেষ হলেও ফুটবল থেকে তাঁর সম্পর্ক এখনই ছিন্ন হচ্ছে না। এবার তিনি নতুন ভূমিকায়—কোচ হিসেবে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির তথ্য অনুযায়ী, রোমেরো ইতিমধ্যেই নিজের কোচিং টিম তৈরি করে ফেলেছেন এবং জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকদের মধ্যে রোমেরোর নামটা সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকবে।
জাতীয় দলের হয়ে ৯৬টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি তাঁরই দখলে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে এই কিংবদন্তীকে বিচার করা যায় না। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডাচদের বিপক্ষে তাঁর বীরত্ব আজও স্মরণীয়। শোনা যায়, ম্যাচের আগে হাভিয়ের মাচেরানো তাঁকে বলেছিলেন, ‘আজ তুমি নায়ক হয়ে উঠবে’। আর রোমেরোও সত্যিই দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এনেছিলেন। যদিও ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায় আলবিসেলেস্তেরা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকাতেও তিনি ছিলেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রোমেরো।
এছাড়াও, ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে লিওনেল মেসিদের সাথে সোনা জিতেছেন তিনি। রেসিং ক্লাবের হয়ে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু হয়। এরপর নেদারল্যান্ডস, ইতালি হয়ে তিনি পৌঁছান ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে রেসিং ক্লাবে ফাকুন্দো কামবেসেসের বিকল্প হিসেবে খেলার সুযোগ চেয়েছিলেন, কিন্তু তা আর হয়নি। অবশেষে, আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় শেষ ম্যাচটি খেলে ফুটবলকে বিদায় জানান। মাঠে হয়তো আর তাঁকে গোল বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যাবে না, তবে ডাগআউটে স্যুট-টাই পরা ‘চিকিতো’কে দেখার জন্য আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।।
কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জন অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবি ও সীমান্তরক্ষীরা সফলভাবে তা প্রতিরোধ করল