Published : 21 Mar 2026, 07:07 PM
সাত মাসের বেতন বকেয়া এবং চাকরি পুনরুদ্ধারের দাবিতে নোভারটিস বাংলাদেশের শ্রমিকেরা ঈদ আনন্দ ছাপিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। আজ শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের চার দফা দাবি জানান। জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এসময় শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। শ্রমিকেরা জানান, দেড় বছর আগে নোভারটিস বাংলাদেশ তাদের ৬০ শতাংশ শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর কোম্পানিটি স্থায়ী কর্মীদের জন্য একটি ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। কিন্তু শ্রমিকেরা এই প্যাকেজকে ‘অপর্যাপ্ত ও বৈষম্যমূলক’ মনে করে আদালতে যান এবং রায় তাঁদের পক্ষে যায়। তা সত্ত্বেও, ৪৬ জন শ্রমিককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, শেয়ার হস্তান্তরের পরপরই কোম্পানি কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেও তা ছিল তাঁদের ন্যায্য অধিকারের তুলনায় অনেক কম। শ্রমিকেরা ৮৪ মাসের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবি উত্থাপন করেন। বিষয়টি আদালতে গেলে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, যার অর্থ ছিল চাকরি বহাল রাখা এবং শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত রাখা। তবে, শ্রমিকদের অভিযোগ, পরবর্তীতে চাকরি ও অন্যান্য সুবিধা বহাল রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ৪৬ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রমিকদের পক্ষে ১২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হয়নি। মানববন্ধনে শ্রমিকেরা চারটি প্রধান দাবি জানান: শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ ছাঁটাই বাতিল করে চাকরি পুনর্বহাল এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, দ্রুত বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং নোভারটিস ও রেডিয়েন্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, কোনো বিদেশি কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তরের সময় দেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। শ্রমিকেরা অভিযোগ করছেন, এক্ষেত্রে সেই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয়নি। শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোম্পানির উদাসীনতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনগত বাধ্যবাধকতা। অন্যথায়, শ্রমিকেরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি 'গণবিরোধী' – জামায়াতের দাবি, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি