Published : 28 Mar 2026, 03:06 AM
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন। ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন (ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স)-এ যোগ দিতে তিনি মরিশাসের পোর্ট লুইসের পথে দিল্লি যাত্রা করবেন। বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহল সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন খলিলুর রহমান। এছাড়াও, ভারতের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গেও তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে সঙ্গী হবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। জানা গেছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে আলোচনার জন্য ঢাকা ও দিল্লি উভয়পক্ষ থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পথ প্রশস্ত করেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি পাঠান। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রীর হাতে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন।
দীর্ঘ ১৮ মাসের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দেয়। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎ এই সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করে। যদিও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাইকমিশনারকে প্রায় ৯ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। জয়শঙ্কর তাঁর সামাজিক মাধ্যমে (এক্স) উল্লেখ করেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মার্চের ২০ তারিখের সাক্ষাতের পরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হোক সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে: শফিকুর রহমানের দাবি