Published : 28 Mar 2026, 03:09 PM
কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের পাশ দিয়ে কাঠপট্টির দিকে যেতেই কামারপট্টির কাছে একটি ভ্যানগাড়ি চোখে পড়বে। কারওয়ান বাজারে মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানগাড়ি দেখা নতুন নয়। তবে এই ভ্যানগাড়িতে মাংস বিক্রি হয়, যা স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ‘গরিবের মাংসের দোকান’ নামে পরিচিত। এখানে ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম মাংস কিনতে পারেন। কারওয়ান বাজার এবং आसपासের শ্রমিকদের মাংস কেনার ঠিকানা এখন আবদুল জলিলের ‘মায়ের দোয়া মাংস বিতান’। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে জলিলের দোকানের সামনে গিয়ে দেখা গেল ছোটখাটো ভিড়। আট-নয়জন মাংস কিনতে এসেছেন, যাদের অধিকাংশই দিনমজুর। কেউ ২৫০ গ্রাম, কেউ ১০০ গ্রাম, আবার কেউ ৫০০ গ্রাম মাংস কিনেছেন। হেলাল মিয়া পরিবারসহ কারওয়ান বাজার রেললাইনের পাশের বস্তিতে থাকেন। তিনি কারওয়ান বাজারে মুটে-মজুরের কাজ করেন এবং দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। তিনি জলিলের দোকানে মাংস কিনতে এসেছেন। হেলাল মিয়া বলেন, ‘এবার ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি। ঈদের সময় মুরগি খেয়েছিলাম।
বাচ্চারা গত দুই-তিন দিন ধরে মাংসের বায়না ধরেছে। তাই আজ ২৫০ গ্রাম গরুর মাংস কিনলাম। ১১ টুকরা মাংস পেয়েছি, যা দিয়ে চারজনের একবেলা ভালোভাবে খাওয়া যাবে।’ আবদুল জলিল গত চার বছর ধরে কারওয়ান বাজারে মাংস বিক্রি করছেন। তিনি মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবে মাংস বিক্রি করেন। যাদের ৭০০-৮০০ টাকায় এক কেজি মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য ১০০ গ্রাম বা ২৫০ গ্রাম মাংসের ব্যবস্থা রেখেছেন। এতে তার বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আজ সকালে ‘মায়ের দোয়া মাংস বিতানে’ গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি মাংসের দাম ৭৮০ টাকা। তবে ১০০ গ্রাম মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, जिसमें ৪-৫ টুকরা মাংস পাওয়া যায়। আর ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, जिसमें ১১-১২ টুকরা মাংস পাওয়া যায়। ভ্যানগাড়ির সামনেই কথা হয় আবদুল জলিলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করেন এমন মানুষের পক্ষে ৭০০-৮০০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কেনা কঠিন। তবে তারা তো পরিবার নিয়ে একবেলা মাংস খেতে চান।
তাই তাদের জন্য ১০০ গ্রাম বা ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি করি। ২৫০ গ্রাম মাংস দিয়ে ছোট একটি পরিবার একবেলা খেতে পারে। মাংসের ঝোল দিয়েও অনেকে চালিয়ে নিতে পারেন।’ জানা গেছে, ‘মায়ের দোয়া মাংস বিতানে’ প্রতিদিন একটি গরুর মাংস বিক্রি করা হয়। কারওয়ান বাজারের কামারপট্টিতে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে এই মাংসের বেচাকেনা। রাস্তার ওপর একটি ভ্যানগাড়িতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে এই দোকান চালান আবদুল জলিল, যেখানে প্রতিদিনের মাংসের দর লেখা থাকে। গত কয়েক বছর ধরে মাংসের দাম বেশ চড়া। মধ্যবিত্তের পক্ষেও মাংস কিনে খাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সাধারণ মাংসের দোকানে ৫০০ গ্রাম বা এক কেজির নিচে মাংস বিক্রি হয় না। ফলে গরিব মানুষের জন্য মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে চেইনশপ স্বপ্ন ১০০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম মাংস বিক্রি শুরু করেছে, কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অভিজাত দোকান থেকে গরিব মানুষের পক্ষে মাংস কেনা এখনো কঠিন।।
পাইপলাইন দিয়ে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছেন ভারত: জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য