Published : 08 Apr 2026, 09:08 AM
আমাদের দেশে প্রায়ই শোনা যায়, ‘চাকরি পেতে মামা-চাচার দরকার’। আমরা এটাকে নেতিবাচকভাবে ‘তদবির’ বা ‘লবিং’ হিসেবে দেখি। কিন্তু আধুনিক কর্মজীবনে এই ধারণা পাল্টে গেছে। এখন এটা ‘প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং’ বা পেশাদার যোগাযোগ নামে পরিচিত। মার্কিন ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মাইপারফেক্টরিজিউমের ২০২৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ মানুষ পরিচিতির মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের চাকরি পেয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, চাকরি খোঁজার সময় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ তাঁদের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাংলাদেশে ‘রেফারেন্স’ শব্দটা অনেক সময় খারাপ চোখে দেখা হয়। তবে পেশাদার রেফারেন্স আর অনৈতিক তদবির এক নয়। তদবির মানে হলো অযোগ্য হয়েও প্রভাব খাটিয়ে সুযোগ নেওয়া। অন্যদিকে নেটওয়ার্কিং হলো নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা সঠিকভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নিয়োগকর্তারাও পরিচিত কাউকে নিতে আগ্রহী হন, কারণ এতে প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে আগে থেকেই একটা ধারণা পাওয়া যায়।
কেন আমরা পিছিয়ে থাকি—সমীক্ষায় দেখা গেছে, আত্মবিশ্বাসের অভাবে প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ পরিচিতদের কাছে সাহায্য চাইতে দ্বিধা বোধ করেন। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই জড়তা দেখা যায়। অনেকেই ভাবেন, সাহায্যের কথা বললে অন্যজন কী ভাববে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে এই লজ্জা ঝেড়ে ফেলা জরুরি। মনে রাখতে হবে, যোগাযোগ একটি দক্ষতা এবং এটি অর্জন করা সম্ভব। পেশাদার নেটওয়ার্কিং তৈরির জন্য কিছু কৌশল— * সাহস করে কথা বলুন: আপনি চাকরি খুঁজছেন বা কোনো বিষয়ে দক্ষ—এটা আপনার চারপাশের মানুষকে জানান। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, পুরোনো সহকর্মী বা পরিচিত শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। * শুধু চাকরি নয়, পরামর্শ চান: সরাসরি ‘চাকরি আছে কি না’ না বলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কাজের ধরন সম্পর্কে পরামর্শ চান। বাংলাদেশে এখন লিংকডইন বেশ জনপ্রিয়; সেখানে অভিজ্ঞদের কাছে ইনবক্সে কোনো বিষয়ে ‘গাইডলাইন’ চাইলে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। * সৃজনশীল আড্ডা: গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ছোট কফি আড্ডা বা গেট-টুগেদার আয়োজন করতে পারেন। বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মিশলে তথ্যের আদান-প্রদান বাড়বে।
একজনকে অন্যজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েও নিজের নেটওয়ার্ক বড় করতে পারেন। * স্বেচ্ছাসেবী কাজ: পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করলে বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভলান্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পেশাদার দক্ষতা বাড়ে এবং আয়ের সুযোগও তৈরি হয়। চাকরির বাজার এখন খুব প্রতিযোগিতামূলক। শুধু বড় ডিগ্রি থাকলেই কাঙ্ক্ষিত পদ পাওয়া কঠিন। নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে সঠিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তুলে ধরাই হতে পারে ২০২৬ সালের ক্যারিয়ারের মূল চাবিকাঠি। তাই গুটিয়ে না থেকে আজই আপনার ফোনবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করুন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে একটি ছোট ‘রেফারেন্স’ আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।।