Published : 19 Apr 2026, 09:07 AM
সফল কর্মজীবনের সংজ্ঞা কি কেবল মোটা অঙ্কের বেতন? সময়ের সাথে সাথে কর্মীদের ধ্যানধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জীবন ধারণের জন্য বেতন অবশ্যই জরুরি, তবে সুখী হওয়ার জন্য কর্মীরা এখন অন্যান্য বিষয়কেও প্রাধান্য দিচ্ছেন। এমনকি, ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চেয়েও তাঁরা ভালো কর্মপরিবেশ এবং মানসিক শান্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা রিওয়ার্ড গেটওয়ে প্রায় ৩২০০ কর্মীর ওপর গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ১. সুস্থ জীবন, ভালো থাকা সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চেয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যারা কর্মীদের সুস্থতা ও কল্যাণের দিকে নজর রাখে। এছাড়াও, ৫৫ শতাংশ কর্মী এমন একজন ব্যবস্থাপক চান, যিনি কেবল কাজের নির্দেশ দেবেন না, বরং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন। ২. কাজের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ অনেকেই মনে করেন, চাকরি মানেই নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে চলা।
তবে ৫৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কাজের সময়ের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা বেতনের চেয়েও জরুরি। এছাড়া, ৪৭ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে কাজের স্বাধীনতার সুযোগ চান। অর্থাৎ, তাঁরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে কাজ করতে পারলে, অতিরিক্ত বেতনের আশা ছেড়ে দিতেও রাজি। আরও পড়ুন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে বিশাল নিয়োগ, ১১০টি পদ, আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩. শেখার সুযোগ ও স্বীকৃতি প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন (৫১ শতাংশ) কর্মী মনে করেন, উচ্চ বেতনের চেয়ে চাকরিতে নতুন কিছু শেখার এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ থাকা বেশি জরুরি। পাশাপাশি, ৩৭ শতাংশ কর্মী তাঁদের ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি ও প্রশংসা চান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের প্রশংসা ভবিষ্যতের সাফল্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ৪. প্রতিষ্ঠানের সাথে একাত্মতা ৫০ শতাংশ কর্মী মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের সাথে একাত্মতা অনুভব করা বেতনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪৬ শতাংশ কর্মী এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান, যাদের আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁদের নিজস্ব বিশ্বাসের সাথে মিলে যায়। এছাড়াও, কর্মীরা তাঁদের ব্যবস্থাপকের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় দেওয়াকে অতিরিক্ত আয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পেশাগত জীবনে বেতন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে এটিই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে? আপনার জীবনদর্শন ও ভবিষ্যতের লক্ষ্যের সাথে বর্তমান কাজটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা বিবেচনা করুন। অনেক সময় কম বেতনের চাকরিতেও বেশি মানসিক শান্তি ও বিকাশের সুযোগ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে। আরও পড়ুন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বড় নিয়োগ, বেসামরিক পদে ১১০ জন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ, ৬০০ বৃত্তি, বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি, ১৮ এপ্রিল ২০২৬।