Published : 19 Apr 2026, 03:07 PM
ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছয়জন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার মানববন্ধনের বিপরীতে, গ্রাহক সমন্বয় পরিষদও একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। গ্রাহকরা এস আলমকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং অবৈধভাবে পাচার করা সম্পদ ফেরত আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের নতুন সংযোজিত ধারা বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আজ সকালে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধনে অংশ নেন। এর পরপরই, ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে একদল গ্রাহক পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন। এই কর্মসূচিতে ‘ইসলামী ব্যাংক দখলের চক্রান্ত বন্ধ করো’, ‘ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল করো’, এবং ‘এস আলম আর নয়’ – এমন বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নুরুন নবী পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন এবং ১৫ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
তাঁদের দাবিগুলো হলো: ১. ব্যাংক থেকে লুন্ঠিত অর্থ ফেরত আনতে এস আলমসহ সকল প্রধান লুটেরাকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাঁদের দেশীয় ও বিদেশের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ২. ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে সংযোজিত ১৮/ক ধারা বাতিল করতে হবে, যা লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ৩. ব্যাংকের সামনে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারকারী এস আলমের অনুগত পটিয়া বাহিনীকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হলে, এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। ৪. কোনো অবৈধ দখলদারকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ৫. ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে তাঁদের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে, যাদের কাছ থেকে হাসিনার অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক এস আলম দখল করেছিলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রাহকরা: ১. জনমত গঠনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন। এক্ষেত্রে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, টুইটারসহ সকল অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে।
প্রয়োজনে পোস্টার ছাপিয়ে লাগানো হবে। ২. বেকার ছাত্র, যুব এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই দাবিগুলো জনপ্রিয় করবেন। কারণ, বাজেয়াপ্ত করা তহবিল তাঁদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবহার করা হবে। ৩. লুটেরাদের সহযোগী ব্যাংক পরিচালক, কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাজের রেকর্ড রাখবেন। ৪. সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে লুটেরা, পাচারকারী এবং তাঁদের সহযোগীদের অবৈধ কার্যকলাপ ও অর্থ লুটের তথ্য তুলে ধরবেন। ৫. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ব্যাংক গ্রাহকদের নিয়ে মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার আয়োজন করবেন।।