Published : 21 Apr 2026, 05:10 AM
পবিত্র মক্কা নগরীতে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করার সাথে সাথেই চোখে পড়ে সোনালী আভায় মোড়ানো কাবা শরীফ। বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আনন্দ আর আবেগ যেন একাকার হয়ে যায়। বিশ্বাসীদের জন্য কাবাঘরের প্রথম দর্শনে চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। এই পবিত্র মুহূর্তে মনে যে দোয়া আসে, সেটাই আল্লাহর কাছে নিবেদন করা উচিত। কাবা শরীফকে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে ‘তাওয়াফ’ বলা হয়। হাজরে আসওয়াদ (জান্নাতি পাথর) থেকে এই পবিত্র প্রদক্ষিণ শুরু করতে হয়। কাবার চারটি গুরুত্বপূর্ণ কোণ রয়েছে: হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘুরে পুনরায় সেই পাথরের কাছে এসে পৌঁছালে একটি পূর্ণ প্রদক্ষিণ সম্পন্ন হয়। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাওয়াফ শুরুর আগে পুরুষদের ইহরামের পোশাকে সামান্য পরিবর্তন আনতে হয়। ইহরামের ওপরের অংশ বা চাদরটি (রিদা) ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাঁ কাঁধের ওপর রাখতে হয়, একে ‘ইজতিবা’ বলা হয়। এছাড়াও, তাওয়াফের প্রথম তিনটি চক্করে পুরুষদের কিছুটা দ্রুত ও বীরত্বের সাথে হাঁটতে হয়, যাকে ‘রমল’ বলা হয়। পরবর্তী চারটি চক্কর স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন করতে হয়।
তবে নারীদের জন্য রমল বা ইজতিবা প্রযোজ্য নয়। মসজিদে প্রবেশের সময় এই দোয়াটি পাঠ করা উচিত— ‘আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা’ (হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও)। মসজিদে প্রবেশের পর সরাসরি কাবার দিকে এগিয়ে যান। এক্ষেত্রে ‘তাহিয়াতুল মসজিদ’ নামাজের প্রয়োজন নেই, কারণ তাওয়াফের মাধ্যমেই মসজিদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। ১. তাওয়াফ শুরু করার জন্য হাজরে আসওয়াদ বরাবর গিয়ে দাঁড়ান। ২. সম্ভব হলে পাথরটি স্পর্শ করে চুমু খান। ভিড়ের কারণে তা সম্ভব না হলে দূর থেকে পাথরের দিকে হাত বাড়িয়ে চুমু দিন এবং বলুন— ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’। ৩. এরপর কাবাকে বাম দিকে রেখে প্রদক্ষিণ শুরু করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করে কুরআন তিলাওয়াত করুন অথবা মনে যা আসে, তা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। রুকনে ইয়ামেনি: প্রদক্ষিণ করার সময় চতুর্থ কোণ বা রুকনে ইয়ামেনিতে পৌঁছালে, সম্ভব হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করুন। চুমু খাওয়ার প্রয়োজন নেই। রুকনে ইয়ামেনি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত— ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা আজাবান্নার।
’ চক্কর সংখ্যা: এভাবে একে একে সাতটি চক্কর পূর্ণ করুন। চক্কর গণনার সুবিধার জন্য হাতে সাত দানার তসবিহ অথবা ডিজিটাল কাউন্টার রাখতে পারেন। যদি চক্কর সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয় (যেমন—৫ না ৬), তবে যে সংখ্যাটিতে আপনি নিশ্চিত, সেটি ধরুন এবং বাকিটুকু শেষ করুন। তাওয়াফ শেষ করার পর ইজতিবা ত্যাগ করুন, অর্থাৎ চাদর দিয়ে দুই কাঁধ ঢেকে নিন। এরপর ‘মাকামে ইব্রাহিম’-এর পেছনে যেকোনো স্থানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন। জায়গা না পেলে মসজিদের অন্য কোনো স্থানে পড়লেও চলবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তেন। (সুনানে তিরমিজি: ৮৬৯) নামাজ শেষ করে প্রাণভরে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, কারণ তাওয়াফ পরবর্তী এই সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাওয়াফ চলাকালে যদি নামাজের জামাত শুরু হয়ে যায়, তবে তাওয়াফ থামিয়ে জামাতে শরিক হোন। নামাজ শেষে যেখানে তাওয়াফ ছেড়েছিলেন, সেখান থেকেই বাকি চক্করগুলো সম্পন্ন করুন।।
ডিপিডিসি প্রকল্পের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাস: সুইমিং পুল ও জিমসহ টুইন টাওয়ার নির্মাণ