Published : 21 Apr 2026, 01:06 PM
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রিংশাইন টেক্সটাইলস, ব্যাংকের নেওয়া ঋণের বোঝা কমাতে এক নতুন কৌশল নিয়েছে। কোম্পানিটি এখন অন্য ঋণ নিয়ে পূর্বের উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ করবে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রিংশাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রায় ৯ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার ঋণ পরিশোধের জন্য নিজেদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লার্ক টেক্সটাইলস থেকে কোনো সুদ ছাড়াই ১০ বছরের জন্য ঋণ নেবে। এই ঋণ ১০টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে, যা ২০২৭ সাল থেকে শুরু হবে। শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
খুব শীঘ্রই কোম্পানিটি একটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অথবা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করবে, যেখানে শেয়ারহোল্ডাররা এই প্রস্তাবের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। রিংশাইন কর্তৃপক্ষের মতে, কম সুদের ঋণ দিয়ে উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ করলে সুদ বাবদ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা কোম্পানির লাভের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধার কারণে ব্যাংক ঋণের পরিশোধে কোম্পানিটি কিছু আর্থিক ছাড়ও পেয়েছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই বস্ত্র কোম্পানি শুধু তালিকাভুক্তির বছরেই শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পেরেছিল। গত ছয় বছরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণের কারণে কোম্পানিটি বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছে। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসার সময় বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
আইপিও-এর আগে, কোম্পানিটি কিছু সুবিধাভোগীর কাছে শেয়ার ইস্যু করেছিল, এবং পরবর্তীতে সেই শেয়ার বিক্রি করে তারা লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তেও রিংশাইনের শেয়ার নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে, রিংশাইন টেক্সটাইলস দুর্বল কোম্পানি হিসেবে জেড শ্রেণিতে রয়েছে। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ৩ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে, কোম্পানিটি ৪৬ কোটির বেশি টাকার লোকসান দেখিয়েছে।।
সবুজ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার