Published : 24 Apr 2026, 05:06 AM
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকার অনুদান গোপন করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের দাবি, রিফাত রশিদ একাই সংগঠনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি ও সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আতিক শাহরিয়ার এই অভিযোগের কথা জানান। সিনথিয়া জাহীন আয়েশা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংগঠনটি দেশব্যাপী গণভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, এই প্রচার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চালানো হবে। কিন্তু পরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয় এবং সেই ব্যয়ের হিসাব তাঁদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।
সিনথিয়া জাহীন আরও বলেন, ‘গত বছর ২৫ জুন প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা একটি নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি পেয়েছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে সাংগঠনিক কাজকর্মে ধারাবাহিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। রিফাত রশিদ একাই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক spirit-এর পরিপন্থী। এটা শুধু ব্যক্তিগত অবমূল্যায়ন নয়, বরং সংগঠনের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের স্পষ্ট উদাহরণ।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব জানার ও জানানোর অধিকার রাখি। আমরা বারবার জবাবদিহি চেয়েছি, কিন্তু প্রতিবারই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা অস্বীকার করা হয়েছে।
বরং আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে আমরা সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে চাই এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাই।’ সিনথিয়া জাহীন জানান, ‘সর্বশেষ ১২ এপ্রিলের কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হন যে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁরা কমপক্ষে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু এই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব এখনো পর্যন্ত আমরা পাইনি। একজন নির্বাচিত মুখপাত্র হওয়া সত্ত্বেও, আমাদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব এবং আহত সেল সম্পাদকসহ আরও অনেককে এই তথ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তাঁদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।।