Published : 06 May 2026, 03:06 PM
বিশ্বের প্রথম সারির প্রকাশনা সংস্থাগুলো মেটার বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা করেছে। অভিযোগ, মেটা তাদের তৈরি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য লেখকদের অনুমতি ছাড়াই বই ও গবেষণাপত্র ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এলসেভিয়ার, সেনগেজ, হ্যাচেট, ম্যাকমিলান ও ম্যাকগ্রা হিলের মতো খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থাগুলো এই অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, মেটা বিপুল পরিমাণ বই ও প্রবন্ধ সংগ্রহ করে ‘লামা’ নামের তাদের এআই মডেলের প্রশিক্ষণে কাজে লাগিয়েছে, যা মেধাস্বত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনার প্রেক্ষিতে মেটা যদিও মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তাদের মতে, এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। আদালতও স্বীকার করেছেন যে, মেধাস্বত্বযুক্ত উপাদান ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ ন্যায্য ব্যবহারের সংজ্ঞায় পড়তে পারে। তাই মেটা এই মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। প্রকাশকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেটা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের পাশাপাশি এন. কে. জেমিসিনের ‘দ্য ফিফথ সিজন’ এবং পিটার ব্রাউনের ‘দ্য ওয়াইল্ড রোবট’-এর মতো জনপ্রিয় উপন্যাসের ডেটাও তাদের এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকরা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান পাবলিশার্সের প্রেসিডেন্ট মারিয়া পালান্টে এক বিবৃতিতে বলেছেন, মেটার এই ব্যাপক আকারের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন কোনো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নয়।
সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব না দিয়ে যদি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পাইরেসির পথ বেছে নেয়, তাহলে এআইয়ের আসল সম্ভাবনা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। উল্লেখ্য, এআই প্রশিক্ষণে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে এর আগেও বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চ্যাটজিপিটি ও ক্লড এআইয়ের নির্মাতা ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধেও ডজনখানেক লেখক, সংবাদমাধ্যম ও শিল্পী মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। সূত্র: রয়টার্স।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী