Published : 10 May 2026, 12:06 AM
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ দেখতে চায় যেখানে কোনো রকম ভয় থাকবে না – গুম, অপহরণের আতঙ্ক থাকবে না, জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না, এবং অবিচার, অনাচার বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রত্যাশিত পরিস্থিতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে, পুলিশের সাথে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে দায়িত্ব পালন আরও সহজ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অত্যাবশ্যক। প্রতি বছর আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ যেন নিজেদেরকে জনগণের কাছে বিশ্বস্ত করে তোলার প্রতিজ্ঞা পূরণের একটি সুযোগ হয়।
এই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন ও বর্তমান সকল কর্মকর্তা, সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে, জনমনে নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তাই, পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে ও সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রমাণ করেছে যে তারা একটি সুষ্ঠু ও অনুকূল পরিবেশে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবময় অবদান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
তবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জাতীয় উন্নয়নের সাথে পুলিশের উন্নয়ন গভীরভাবে জড়িত। তাই সরকারের কাছে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগ জননিরাপত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘবদ্ধ সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।।
বাংলাদেশ আর কারো খেলার ‘বল’ নয়, ন্যায্যতার রক্ষক হবে: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা