Published : 13 May 2026, 02:07 PM
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থাভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তাঁর দল টিভিকে-র বিধায়কদের পাশাপাশি অন্যান্য শরিক দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মোট ১৪৪টি ভোট পেয়েছেন। আইইউএমএল, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেসের মতো দলগুলো দ্রুত বিজয়ের পাশে এসে দাঁড়ালে টিভিকে-র সমর্থনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১১৭-তে পৌঁছায়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। তবে এরপর বিজয়ের পক্ষে সমর্থন আরও বাড়তে থাকে, বিশেষ করে এআইএডিএমকের অভ্যন্তরে দেখা দেওয়া দ্বন্দ্বের কারণে। এআইএডিএমকের প্রধান এডাপ্পাদি পালানিস্বামী আস্থা ভোটের বিরোধিতা করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন তাঁর দলের ৪৭ জন বিধায়ক টিভিকে-র বিপক্ষে ভোট দেবেন। কিন্তু এসপি ভেলুমানির নেতৃত্বে অন্য একটি গোষ্ঠী তাঁর এই দাবিকে ভুল প্রমাণ করে। ভেলুমানি আগে থেকেই বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন এআইএডিএমকের ২১ জন সংসদ সদস্য বিজয়ের দলকে সমর্থন করবে। এই আস্থা ভোটের ফলাফল বিজয়ের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জয়।
তামিলনাড়ু নির্বাচনে টিভিকে-র অভাবনীয় সাফল্যের পর কয়েকদিন ধরে ক্ষমতার লড়াই চলছিল। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় দলটি ১১৮টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে ছিল। এরপর কয়েকদিনের অনিশ্চয়তার পর রাজ্যপাল আরভি আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয় ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। নিয়মানুসারে, শপথ নেওয়ার পর বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়। বিজয় দুটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবং বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর ভোটে অংশ নিতে অযোগ্য হওয়ায় টিভিকে-র বিধায়কের সংখ্যা ১০৫-এ নেমে আসে। আস্থা ভোট জিততে ১১৭টি ভোট প্রয়োজন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল সহজেই সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়।
আস্থা ভোটে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর সরকার 'ধর্মনিরপেক্ষভাবে' পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার কোনো প্রকার 'ঘোড়া কেনাবেচা'র রাজনীতিতে লিপ্ত হবে না এবং দ্রুত গতিতে কাজ করবে। আগের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প তাঁর সরকারেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে, আস্থা ভোট চলাকালে ডিএমকে তামিলনাড়ু বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে। তামিলনাড়ুর বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিন টিভিকে-কে বিদ্রুপ করে বলেন, ছোট দলগুলো শুধুমাত্র এই কারণে সমর্থন দিয়েছে, যাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি না হয়।।