Published : 15 May 2026, 09:46 PM
আমেরিকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি ছাত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত বসন্ত সেমিস্টারে বিদেশি স্নাতক স্তরের ছাত্রছাত্রীর ভর্তি গড়ে ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একাধিক শিক্ষা সংস্থার সম্মিলিত এক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জরিপের ভিত্তিতে এই ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের ৬২ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের এখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরেই বিদেশি ছাত্রের সংখ্যা কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রবণতা আসন্ন শরৎ সেশনের জন্য একটি অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি পরিশোধ করে থাকে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক কাঠামোতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
এই পতন দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও, ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের ছুটি আসছে। রিপোর্টে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ও ভিসা নীতির পরিবর্তন এই হ্রাসের প্রধান কারণ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আবেদন এবং আগ্রহ কমে গেছে। ইতিপূর্বে, অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান, শিক্ষার্থীদের আটক এবং ভিসা বাতিল হওয়ার মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জের পর সেই সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও এর প্রভাব আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়ে গেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত গ্রীষ্মে স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
একই সময়ে, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া স্থগিত এবং নতুন যাচাই-বাছাইয়ের কারণে আবেদন প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের বসন্তে সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ভর্তি আগের বছরের তুলনায় ১.৪ শতাংশ কমেছিল, যা কঠোর নীতি পরিবর্তনের আগে করা আবেদনের ফল ছিল। অন্যান্য দেশের চিত্র: একই সময়ে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতেও আন্তর্জাতিক ছাত্রের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব শিক্ষাবাজারে গন্তব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নীতি পরিবর্তন ও ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাখাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভরতা কমতে পারে এবং অন্যান্য দেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।।
seniors এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে সুখবর! ভাড়ায় ২৫% ছাড়ের ভাবনা