Published : 16 May 2026, 03:48 AM
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পর থেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে একজোড়া জমজ শিশু। এখনো তাদের কোনো নাম রাখা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই শিশুদের শরীরে প্রায় সকল প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করছে না। এই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মণবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক উদ্দিন (৪২) পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি জানান, ৫ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জমজ সন্তানের স্বাভাবিক প্রসব হয়। তবে জন্মের পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, নবজাতক দুটির শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তাই তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়। প্রথমে শিশু ওয়ার্ডে রাখা হলেও, তাদের কান্নার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত এনআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তারা কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি’ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুদের শরীরে অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধই আর কাজ করছে না। গতকাল দুপুরে হাসপাতালটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মা কোহিনুর সুলতানা বারান্দায় শুয়ে আছেন এবং পাশে বসে আছেন মানিক উদ্দিন। তাদের দুই সন্তান ‘মানিক-১’ ও ‘মানিক-২’ নামে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বাবা-মায়ের চোখেমুখে তখন গভীর উৎকণ্ঠা। কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহতারামা মোস্তারী জানান, ‘মানিক-১’-এর অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে ‘মানিক-২’-এর শ্বাসকষ্ট বেশি হওয়ায় তাকে বেশি অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং নিয়মিতভাবে অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত করছেন। মোহতারামা মোস্তারী আরও জানান, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী নবজাতকের ঘটনা আগেতেও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সমস্যার আশঙ্কায় পাঁচ দিন আগে থেকেই কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট আসার আগেই চিকিৎসকেরা সেই ওষুধ দেওয়া শুরু করেন।
গতকাল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তাঁদের আশঙ্কাই সত্যি হলো। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন জানান, নির্বিচার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায়শই সঠিক মাত্রা অনুসরণ করা হয় না অথবা রোগীকে পুরো কোর্স সম্পন্ন করানো হয় না। অনেক সময় দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কম মাত্রার ওষুধ পরবর্তীতে আর কাজ করে না। অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি পরীক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর আছে এবং কোনটি প্রতিরোধী হয়ে গেছে। নির্বিচার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে জীবাণুগুলো টিকে থাকার কৌশল তৈরি করে ফেলে, ফলে সাধারণ ওষুধ আর তাদের ধ্বংস করতে পারে না। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ল্যাবেই এই পরীক্ষা করা হয়। আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এই শিশুদের কোনো দোষ নেই, তবুও তারা এমন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে।।
energy সহযোগিতা: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন