Published : 18 May 2026, 04:08 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর হুঙ্কার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি আরেকটি গণ-আন্দোলন হয়, তবে প্রথম কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা।’ বিগত নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এর সাথে জড়িতদের বাংলাদেশে বিচার করার অঙ্গীকার করেন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নতুন কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তার এই ধরনের কথা শুনে অভ্যস্ত। মিটিং শেষে তিনি প্রায়ই বাইরে গিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেন, কিন্তু আমরা এতে ক্ষুব্ধ হই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ পাটওয়ারী বলেন, ‘কারচুপির মাধ্যমে কক্সবাজারের হামিদুর রহমান আযাদ এবং শামীম ওসমানের আসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল মামুনও ভুক্তভোগী। এখানে অনেকে ইতিবাচক কথা বলছেন, কিন্তু আসলে এটি একটি সম্পূর্ণ পাতানো নির্বাচন ছিল।
’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না, এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশন আমাকে অফিসে ঢুকতে দেবে কিনা। তবে ইনশাআল্লাহ, আরেকটি গণ-আন্দোলন হলে আমি প্রথম কাজ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে গোড়া থেকে পাল্টে দেব। এটাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে পাটওয়ারী বলেন, ‘আমি একজন প্রার্থী হিসেবে দেখেছি, নির্বাচন কমিশনে ফোন করে জানতে পেরেছিলাম, মামুনুল হকের আসনে ব্যালট বক্সের বাইরে সিল পড়লে তা গণনা করা হবে না। কিন্তু আমার আসনে বলা হয়েছিল, ব্যালট বক্সের বাইরে সিল পড়লে সেটিও গণনা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে ডিসি অফিস পর্যন্ত কীভাবে কারচুপি করা হয়েছে, তা এই দেশ দেখেছে। আমরা এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও অভিযোগ করেছি। যেহেতু আমি নিজে এর সাক্ষী, তাই ইনশাআল্লাহ এই পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড সোজা থাকলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যায়।’ তবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তার এই ধরনের কথা শুনে অভ্যস্ত।
এর আগে যখন আমাদের সাথে মিটিং হতো, মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমে আমাদের তিরস্কার করতেন। তবে আমরা এতে ক্ষুব্ধ হই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ সিইসি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা আপনারা এবং দেশবাসী দেখেছেন। নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে তিরস্কার করলেও আমি ক্ষুব্ধ নই। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে পছন্দ করি। তিনি মুখের ওপর সত্যি কথা বলেন। আমরা তার এই ধরনের কথা শুনে অভ্যস্ত।’।
তনু হত্যার রহস্যে নতুন মোড়! নয় বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় পোশাকের রক্তে আরও একজনের পরিচয়