Published : 19 May 2026, 09:06 PM
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম রোগের চিকিৎসায় নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার অধীনে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হাম ও হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন তৈরি করতে হবে। রোগীদের দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করতে, চিকিৎসকদের প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশনা সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালের জন্যই প্রযোজ্য। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সকল সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য অবশ্যই আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন থাকতে হবে। হামে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এছাড়াও, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে।
ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল-বিকেল দুইবার ওয়ার্ডে রাউন্ড দিতে হবে। প্রতিটি ভর্তি রোগীর সাথে শুধুমাত্র একজন অভিভাবক অথবা দর্শনার্থী হাসপাতালে থাকতে পারবেন। রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে জমা দিতে হবে। অধিদপ্তর জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮-এ যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে হাম রোগী ভর্তি না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে, অধিদপ্তর কিছু কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সকল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন রাখতে হবে। এছাড়াও, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসা ও ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২-এর ৬-এর (ট) অনুযায়ী, সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে।
এই ১০ শতাংশ শয্যার অর্ধেক হাম রোগ ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১২টি শয্যা নির্দিষ্ট রাখতে হবে। বিষয়টি জরুরি বিভাগ ও অনুসন্ধান ডেস্কে জানাতে হবে। এসব হাসপাতালেও ভর্তি হওয়া রোগীদের সাথে একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকতে পারবেন। ভর্তিকৃত রোগী সম্পর্কিত তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ এই হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাম ও হাম সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।।
হামের টিকা সংকট: বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন পরিস্থিতি জটিল হলো?