Published : 21 May 2026, 05:11 PM
দেশের কৃষি ও প্রকৃতির নিরাময় এবং সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ও তিস্তা নদীর উপর ব্যারেজ নির্মাণে মনোযোগ দিয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাতাইশে 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে সরকার প্রধান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “একসময় পদ্মা নদীর এপাড় থেকে ওপাড় দেখা যেত না, এখনো দেখা যায় না। তবে আগে প্রচুর পানি ছিল, এখন নেই। ফারাক্কা বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, সুন্দরবন এবং বিস্তীর্ণ জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নানা প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।” এই সংকট মোকাবেলার জন্য পানি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। এজন্যই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন, যাতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।
তিস্তা ব্যারেজ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে লোক দেখানো বক্তব্য দিতে পারেন, তবে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজের কাজও শুরু করবে। যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—আজ দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে তিস্তায় বিএনপি যে কর্মসূচি পালন করেছে, তা অন্য কোনো দল করেনি। পরিস্থিতি তৈরি এবং কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে বিএনপিই প্রথম।” ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “গত ২০ বছরে আমরা যে পরিমাণ পানি তুলেছে, তা পুনরায় স্বাভাবিক হতে আরও ২০ বছর লেগে যাবে। জনসংখ্যা বাড়ছে, খাদ্য উৎপাদনও বাড়াতে হবে। তাই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। এজন্য দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে। রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সীমান্ত পেরিয়ে পানি প্রত্যাহারের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।
” দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগ আমরা থামাতে পারব না, তবে সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। আজকের অনুষ্ঠানের শপথ হওয়া উচিত—আমরা নিজেরাই সচেতন হব এবং অন্যকেও সচেতন করব। প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে গাছ লাগানো, খাল খনন এবং পানির অপচয় রোধের মাধ্যমে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা যায়, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।” দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা গরিব দেশ হতে পারি, কিন্তু সম্পদ রক্ষায় সচেতন হলে উন্নত দেশের মতো করে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব। অবহেলা বা অজ্ঞতার কারণে সম্পদ নষ্ট হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।” দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ও সচিব সাইদুর রহমান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এবং গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।।
হামের টিকা সংকট: বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন পরিস্থিতি জটিল হলো?