Published : 25 May 2026, 12:01 AM
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলায় ট্রেনে ভ্রমণের চাহিদা ব্যাপক। এই বিপুল চাহিদা পূরণ করা বেশ কঠিন। কারণ, যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা সীমিত। আজ রবিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। ঈদ উপলক্ষে এই সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রায় চার হাজার অতিরিক্ত যাত্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে করে ঈদ যাত্রা করতে ইচ্ছুক, তাই এই চাপ সামলানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ। রেলমন্ত্রী রবিউল আলম কয়েকটি ট্রেন ঘুরে দেখে বলেন, ট্রেনের পরিবেশ এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির মাত্রা ভালো। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সিটিং ক্যাপাসিটি অনুযায়ী যাত্রীরা ভ্রমণ করছেন। তবে, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত টিকিট দিয়েছি। আজ সকাল থেকে তিনটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা পিছলে যাওয়ায় বিলম্ব হয়। মন্ত্রী জানান, ট্রেনের লাইনে শুকানো ধানের খড় পড়ে থাকার কারণে চাকা পিছলে গিয়েছিল। উদ্ধার করে ট্রেনটি পুনরায় চালু করতে হয়েছে। এর ফলে দুটি-তিনটি ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে—একটি ২০ মিনিট, অন্যটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে তুলনামূলকভাবে কম ভিড় দেখা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রী সংখ্যাও কম ছিল। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে কেউকেটা উঠতে দেখা যায়নি। সেলিম রেজা তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছেন। রাজশাহী কমিউটারের জন্য তিনি সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর টিকিট পান। সেলিম রেজা বলেন, “আমি বনলতা এক্সপ্রেসে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অনলাইনে টিকিট পাইনি। অনেক কষ্টে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট জোগাড় করলাম।
যদিও ট্রেনটি ১২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা, এখন সাড়ে ১২টা বাজে, তবুও ট্রেন আসেনি।” আরেক যাত্রী কামাল উদ্দিন তাঁর দুই মেয়ে ইশিতা ও কানিতা এবং স্ত্রী রূপা বেগমের সাথে রাজশাহী যাচ্ছেন। ভিড় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগের মতো ভিড় নেই, বেশ স্বস্তিদায়ক। আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম। ঈদে পরিবারের সাথে সময় কাটানোই আসল কথা, তাই একটু আগে যাচ্ছি।” রাজশাহী কমিউটার ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, “এই ট্রেনটি সাধারণত একটু দেরিতেই আসে। আজকেও আসতে দেরি হচ্ছে। ট্রেনটি আসার সাথে সাথেই ছেড়ে দেওয়া হবে।”।
সবুজ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার