Published : 28 May 2026, 02:08 PM
রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনার হিড়িক পড়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কমে যাওয়ায় এবং বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক খামারি ও ব্যাপারি লোকসানে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে কোরবানির পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত গাবতলী হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে করে অবিক্রিত গরু নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ ট্রাক খুঁজে না পেয়ে পরিবহনের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারি মোহাম্মদ লাভলু জানান, তিনি ৪৪টি গরু নিয়ে এসেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ১৩টি বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি গরুগুলো তিনি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে গরুর সঙ্গে আমরাও কোরবানি হয়ে গেলাম।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে আসা আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি ৩৮টি গরু কিনে ঢাকায় এনেছিলেন। এর মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা চেয়েছিলাম, আজ সেটি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। ঋণ করে গরু কিনেছি, তাই লোকসান হলেও টাকা পরিশোধ করতে হবে।’ খামারি ও ব্যাপারিরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও কাদার কারণে হাটে গরু রাখতে সমস্যা হচ্ছিল, এতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তাই অনেকে বড় ধরনের লোকসান মেনেও দ্রুত গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রতি গরুতে এক লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে গরুর দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। ক্রেতা মোহাম্মদ ফারদিন বলেন, ‘যে গরুর দাম ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি আমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি।’ আরেক ক্রেতা সাহেদ বলেন, ‘ঈদের আগের দিন থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।
’ উল্লেখ্য, গাবতলী হাটে দুপুর ১১টার পরও প্রচুর গরু দেখা যাচ্ছিল। ব্যাপারিরা বলছেন, কোরবানির পশুর সরবরাহ যথেষ্ট ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় বাজারে দামের এই পতন ঘটেছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে দাম কমতে শুরু করে। গত ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কোরবানি হওয়া ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি। এছাড়া, ছাগল ও ভেড়া ছিল ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি এবং অন্যান্য পশু ছিল ৯৬০টি। এর আগে, গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। আর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।।
হামে জর্জরিত বাংলাদেশ: dernières ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬৫-তে উন্নীত