Published : 03 Jun 2026, 02:13 AM
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় চেয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি (সিডিপি) কমিটি সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ অনুযায়ী, এলডিসি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। এই সুপারিশটি আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠির ভিত্তিতে। সিডিপি কমিটি জানিয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশ যথেষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। নিকট বা মধ্যমেয়াদে এই মানদণ্ড থেকে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে কমিটি মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির মতো বাহ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই কারণে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে তারা মনে করেছে। সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা সঠিক পদক্ষেপ। এই অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশকে তার অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে অভ্যন্তরীণ সংস্কারে আরও বড় অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। কমিটির মতে, উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কিছু ক্ষেত্রে আরও জোর দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি করা, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, এলডিসি পরবর্তী পরিবেশের জন্য বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই সুপারিশ অনুমোদন করে, তবে বাংলাদেশ তার 'মসৃণ উত্তরণ কৌশল' বা স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি সফলভাবে বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় পাবে।
এর ফলে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আগেই দেশটি নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। সিডিপি আরও উল্লেখ করেছে যে, প্রস্তুতির সময়কাল এবং উত্তরণ পরবর্তী উভয় পর্যায়েই বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। এর মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ, কারিগরি সহায়তা, এলডিসি-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ সরকার সিডিপির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং চলমান সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই, মসৃণ ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি 'গণবিরোধী' – জামায়াতের দাবি, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি