Published : 04 Jun 2026, 04:11 AM
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সফর করছে। এই সফরটি সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং নীতিগত লক্ষ্যগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ (৩ জুন) আইএমএফ-এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এক বিবৃতিতে জানান, এই সফরটি সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফ-সমর্থিত সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি, তার আর্থিক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির সময় করা হবে। কর্তৃপক্ষ আইএমএফের কাছে অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে নতুন ঋণ কর্মসূচির অনুরোধ জানিয়েছে।
ক্রজনার আরও জানান, সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা ও কাজ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত বর্ধিত ক্রেডিট সুবিধা (ইসিএফ), বর্ধিত ফান্ড সুবিধা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি সুবিধা (আরএসএফ)-এর অধীনে চলমান আর্থিক কর্মসূচিগুলো কঠিন সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এই সময়কালে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমান সরকার আরও জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ক্রজনার আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নতুন কর্মসূচির (সাকসেসর অ্যারেঞ্জমেন্ট) জন্য কর্তৃপক্ষের এই অনুরোধ আইএমএফ ও সরকারের জন্য এমন একটি সম্ভাব্য কর্মসূচির পথ খুলে দিয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
আইএমএফ মিশন প্রধান জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো নতুন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা অবশ্যই বাংলাদেশের লেনদেনের ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা এবং একটি নির্ভরযোগ্য সংস্কার কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। এটি আইএমএফ-এর নিজস্ব নীতিমালা ও নির্বাহী বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের সাপেক্ষে কার্যকর হবে। তিনি উপসংহারে বলেন, "সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের যে প্রচেষ্টা, তাতে আইএমএফ সর্বদা একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।"।
বিদ্যুৎ তেলের মূল্যবৃদ্ধি: অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর চরম চাপ