Published : 05 Jun 2026, 06:13 AM
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছে। তারা দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও এক মাসে দুবার মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে তারা বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধ করার দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে আগামী দুই বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে আবারও মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মাত্র চার দিনের গণশুনানির নামে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।" তিনি বিদ্যুৎ খাতের সমস্যার গভীরে গিয়ে বলেন, "এই খাতের আসল সমস্যা হলো ব্যাপক দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং কুইক রেন্টালের নামে অযৌক্তিক 'ক্যাপাসিটি চার্জ' আদায় করা।
সরকার এই অনিয়মগুলো বন্ধ না করে তার বোঝা প্রান্তিক গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।" বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের শর্ত পূরণের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা তাদের কাছে দাস নই, আমরা তাদের গোলাম নই। তাদের কথায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগ আপনি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই অবিচার দেশের মানুষ মেনে নেবে না।" বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে কৃষি, সেচ, পরিবহন এবং শিল্প খাতের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলস্বরূপ বাজারের প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। তিনি ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে বলেন, "ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অপশক্তির দোসরকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আমরা এই অবৈধ নিয়োগ মানি না এবং তা বাস্তবায়িত হতে দেব না। বাংলাদেশের গ্রাহক সমাজ ওই বেআইনিভাবে নিযুক্ত চেয়ারম্যানকে কোনোভাবেই ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেবে না।" তিনি মতিঝিলে ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরীর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো স্লোগান দেন।।
৬টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর জবাব