Published : 08 Jun 2026, 09:02 PM
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটন দাসের অভিষেক ঘটেছিল ২০১৫ সালের ১০ জুন। আগামী বুধবার তাঁর আন্তর্জাতিক কর্মজীবনে এগারো বছরের মাইলফলক পূর্ণ হবে। এত পথ অতিক্রম করার পর লিটন এখন কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে? তিনি ৫৪টি টেস্টে ৩৬.৪৭ গড়ে ৩৩৫৬ রান করেছেন এবং ৬টি সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, ১০১টি ওয়ানডেতে ৩০.৫৮ গড়ে ২৭৮৩ রান এবং ৫টি সেঞ্চুরি। ১২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৩.৪৯ গড়ে ২৭০২ রান এবং ১২৬.৭৯ স্ট্রাইক রেট। তাঁর প্রতিভা ও সক্ষমতার তুলনায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে না পারার জন্য এই প্রসঙ্গে আলোচনা, আক্ষেপ বা সমালোচনা কম হয়নি। তবে এই সময়ে তিনি সাফল্যও পাননি না। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তিনি সেঞ্চুরি সহ উইকেটকিপিংয়েও দারুণ অবদান রেখেছিলেন। ক্যারিয়ারের এই ধাপে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে তিনি কী ভাবছেন? তাঁর বর্তমান মানসিকতা কী? ব্যাটিং সংক্রান্ত এই বিষয়ে প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিটন মনের কথা বলেছেন, 'আমার কাছে এখন আর হারানোর কিছু নেই। আমি যে স্তরে আছি, এই স্তরে আর হারানোর কিছু নেই।
এখন হয় আঘাত করব, না হয় শেষ হব। এটাই আমার মানসিকতা।' লিটন আরও যোগ করেন, 'আমি এই দুটির মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছি—হয় আমি আঘাত করব, না হয় শেষ হব। ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরে যাওয়া শ্রেয়। এই মানসিকতা এখন আমার মধ্যে তৈরি হয়েছে।' এই কথা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পরিবর্তন আসার আগে তিনি কেমন ছিলেন? প্রথমত, আউট হলে কী হবে, সেই ভয় এখন আর তাঁর মধ্যে কাজ করে না। 'এখন আমার মধ্যে আর সেই অনুভূতি কাজ করে না যে আমি আউট হতে পারি বা যদি আউট হই, তাহলে কী হবে। কারণ, এই চিন্তা একজন ব্যাটসম্যানকে অনেক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।' আরও পড়ুন এবার কি পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশ এগিয়ে? অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক দিলেন জবাব। গত দুই বছরে লিটনের মানসিকতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা তিনি জানান।
আগে তিনি যে ভাবতেন, 'আমার ক্যারিয়ারে যদি বলি, তাহলে ছয় বছরই হয়তো এই চিন্তাতেই খেলেছি, যদি আউট হয়ে যাই, কী হবে? যদি দশ রান করি, আবার যদি ব্যর্থ হই!' এখন তিনি সেই মানসিকতার মধ্যে নেই। লিটন আরও বলেন, 'আমি অনেক দিন ধরেই একজনের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং সেই মানুষটি আমাকে যথেষ্ট ক্রিকেটীয় মানসিকতায় অনেক কিছুতে পরিবর্তন করেছে। এই কারণেই এখন আমার মধ্যে আর সেই ভয় কাজ করে না যে আমি আউট হতে পারি বা যদি আউট হই, তাহলে কী হবে।' সেই মানুষটি কে, যিনি লিটনের চিন্তার জগৎ বদলে দিয়েছেন? লিটন বলেন, 'স্পিন কোচ (মুশতাক আহমেদ)। তিনি আমার মানসিকতা বদলে দিয়েছেন। প্রথম দেখাতেই তিনি আমার সঙ্গে দুই-তিনটি কথা বলেন এবং সেই কথাগুলো আজও চলতে থাকে। হয়তো তিনি আমার ভেতরের সেই প্রতিভাটা দেখেছেন। তাঁর কাছে মনে হয় আমার কিছু ঘাটতি আছে, এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা দরকার, এবং তিনি বলেন, আমি তাঁর অনুসরণ করার চেষ্টা করি।' আরও পড়ুন নির্বাচিত হয়ে পরদিনই পদত্যাগ করলেন বিসিবি পরিচালক শাকরুল।।
সড়ক বাতি প্রযুক্তিতে ফ্রান্স সফর প্রস্তাব: রাজশাহী সিটি প্রশাসকের আবেদন খারিজ করলেন প্রধানমন্ত্রী