Published : 27 Jun 2026, 11:22 AM
পাঁচ দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) ফাইনালে জয় ছিনিয়ে আনেন ‘নিউইয়র্ক নিকস’। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের উল্লাস প্রকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের মিডটাউন এলাকা। স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে দলটির লক্ষ লক্ষ ভক্ত রাস্তায় নেমে এক উন্মত্ত উল্লাসে ফেটে পড়েন, যা দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়। এই সময় টাইমস স্কয়ারে এক কিশোরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সাথে, বিশ্বকাপের দর্শকদের নামিয়ে ফেরা কিছু বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শত শত তরুণ বাসের ওপর উঠে পড়েন সমর্থকরা এবং কেউ কেউ চালকের আসনে বসে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলুদ রঙের স্কুলবাসগুলোর একটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং আরও তিনটি বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাসের ওপর ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে আসা মরক্কো বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ইউসেফ সাব্বর (৪৯) জানান, তারা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। যদিও এটি কিছুটা সহিংস ছিল, তবুও পৃথিবীর সব দল জেতার উল্লাসে এমন ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাত দুইটার দিকে টাইমস স্কয়ারে উল্লাসের মাঝে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর আঘাতের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পানশালা থেকে খেলা দেখার পর বেরিয়ে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্যারল মারিনো বলেন, মনে হচ্ছে একসঙ্গে ২০টি থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ঘোড়সওয়ার পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা সংযম প্রদর্শনের পর পুলিশ সদস্যরা লাঠি উঁচিয়ে সমর্থকদের ধাওয়া করে রাস্তা পরিষ্কার করে দেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তাগুলো ঘিরে ফেলা হয়। নিউইয়র্কের নিকসের সমর্থক ডিন ও ক্রিস্টিনা স্মিরোস বলেন, ‘আমাদের জন্মের পর এই প্রথম দল এভাবে জয় পেল, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও যথাক্রমে হিউস্টন রকেটস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে হেরেছিল নিউইয়র্ক নিকস।।