Published : 29 Jun 2026, 08:32 PM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটে সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে, বাজেট ঘাটতি ২ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি)-এর ৩.৩ শতাংশ। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে এই বাজেট উত্থাপন করা হয়। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ধীরগতিসম্পন্ন হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ে অপচয় রোধ করা, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদানের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ব্যয় সমন্বয় করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।
স্পিকার জানান, সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এই দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। সময় বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো আলোচনা করা হবে। বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।।