Published : 08 Jul 2026, 10:40 PM
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার গভীর অরণ্যের বুকে কচুর মুখি বা অন্যান্য ফসলের চাষের নামে যেভাবে নির্বিচারে বনভূমি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল পরিবেশের জন্য নয়, প্রকৃতির এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় শত শত একর প্রাকৃতিক বন আগুনে গ্রাস হয়েছে। পোড়া গাছের কালো ছাই দেখলে মনে হয় যেন এক সুপরিকল্পিত ‘গাছের গণহত্যা’ সংঘটিত হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের সবচেয়ে বড় শিকার হলো পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণীরা। পিটাছড়ার এই নিবিড় বনে লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, রাজগোখরা, হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপসহ অন্তত পনেরো প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, পঁচিশ প্রজাতির সাপ এবং একশোর বেশি প্রজাতির পাখির বাস। এই বন পোড়ানোর ফলে তারা আজ তাদের ঘর ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে এবং নির্মমভাবে প্রাণ হারাচ্ছে।
বিশ্ব জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্দো-বার্মা হটস্পট’-এর অংশ এই অঞ্চলের এমন বিপর্যয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে পার্বত্য অঞ্চলে কমে যাওয়া এক লক্ষ হেক্টর বনের মধ্যে প্রায় আশির লক্ষ হেক্টর বিলীন হয়েছে। কাসাভা, পামগাছ বা বাণিজ্যিক কচু চাষের নামে এই লুণ্ঠনই এর মূল কারণ। আশির দশকে পুনর্বাসিত পরিবারগুলোকে দেওয়া ভূমির ‘কবুলিয়ত’ বা দলিলের শর্ত ছিল যে জমি কোনোভাবেই ইজারা বা বর্গাদার চাষের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। অথচ মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা সেই শর্ত ভঙ্গ করে বহিরাগত শ্রমিকদের দিয়ে বনের পর বন পুড়িয়ে দিচ্ছে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এই বেআইনি ইজারা ও বন পোড়ানোর খবর জেনেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেননি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জমিগুলো ‘সরকারি রিজার্ভ বন’ না হওয়ার অজুহাতে কোনো দায় নিতে রাজি নন, অথচ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন সমগ্র দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার সংকটকে সুযোগ নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি হলো কঠোর আইনি তদারকি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পরিবেশবিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত উদ্যোগে অবিলম্বে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক। ক্ষণস্থায়ী বাণিজ্যিক লাভের জন্য খাগড়াছড়ির বন ও বন্য প্রাণীর এই সর্বনাশ বন্ধ করতে হবে।।
চার মাসের অপেক্ষার পর ঐতিহাসিক সাফল্য: 'বাংলার জয়যাত্রা' সফলভাবে পার হলো হরমুজ প্রণালী