Published : 08 Jul 2026, 11:00 PM
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় দেশের সঙ্গে ৫৯তম দেশের মধ্যে কি কোনো তুলনা চলে? বিশেষত দুই দলের মুখোমুখি তিন ম্যাচের মধ্যে জয়ী দেশটি কি সেই স্থান ধরে রাখতে পারবে? স্পেন আর সৌদি আরবের মধ্যে তুলনা করা ঠিক হবে না। তবে আজকের ম্যাচে সৌদি আরবের চেয়েও চার ধাপ পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেনের এই লড়াই রীতিমতো এক মহারণ। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করুন বা না করুন, তিনি এখন চরম চাপের মুখে। ২০২৪ ইউরোজয়ী দলটিকে ফেভারিটদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হচ্ছিল। গত দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে আনন্দদায়ী ফুটবল খেলেছে স্পেন। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে যেন ফিরে এলো সেই মলিন স্পেন দল, যারা সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। প্রথম ম্যাচের ড্র সেই একঘেয়েমিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে ২০২২ বিশ্বকাপে সর্বশেষ গোল দেওয়ার পর আড়াই হাজার পাস দিয়েও একটি গোল করতে পারেনি স্পেন। নকআউট পর্বে এগিয়ে যেতে হলে আজকের ম্যাচে স্পেনের জয় ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। এই পরিস্থিতিতে লা ফুরিয়া রোজাদের এমন এক খেলোয়াড়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে, যার বয়স এখনো ১৯ হয়নি। লামিন ইয়ামাল।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে মাঠে নামেননি, চোট থেকে সেরে ওঠার পর তাঁকে একাদশে রাখার ঝুঁকি নেননি দে লা ফুয়েন্তে। হয়তো পুরো ম্যাচেই বিশ্রাম দিতেন, কিন্তু গোলের জন্য মরিয়া হয়ে তাঁকে মাঠে নামিয়েছেন। ইয়ামাল গোল না পেলেও, মাঠে নেমে তিনি নিজের প্রতিভা ও ঝলক দেখিয়েছেন। দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচের পর মন্তব্য করেন, ‘ইয়ামাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামেই দেখিয়েছে সে কী করতে পারে। হয়তো বেশি সময় খেলেনি, কিন্তু সেই ম্যাচের জন্য এটাই যথেষ্ট।’ ইয়ামালের সঙ্গে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন আরেক উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস। ট্যাকটিক্যালি স্পেন কোচ আজ এই দুই খেলোয়াড়কেই শুরু থেকেই চাইবেন। রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ আর গাভির মতো চার মিডফিল্ডার খেলিয়েও স্পেন কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ সম্ভবত পেদ্রিকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং গাভিকে উইংয়ে খেলানো, যে ভূমিকায় এই দুজনেই অভ্যস্ত নন। ইউরোতে বাঁয়ে ইয়ামাল ও ডানে নিকো উইলিয়ামসের সেই যুগলবন্দী আজ অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে দে লা ফুয়েন্তের ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও মুখে তা স্বীকার করছেন না কোচ, ‘আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। বিশ্বকাপ তো সবে শুরু। আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়। আমরা চেষ্টা করছি, যা করতে চাইছি সেটাই করতে পারব।’ স্পেন ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে হয়তো গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোর দিকে নজর দেবেন। উরুগুয়ে-কেপ ভার্দের ম্যাচ ড্র হওয়ায় সবাই একই সমতলে। স্পেন ম্যাচ থেকে প্রেরণা নিয়ে কেপ ভার্দে নিশ্চিতভাবেই আরেকটি অঘটনের দিকে তাকিয়ে থাকবে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়টি উরুগুয়ের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।।
চীন সফর শেষে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক বার্তা