Published : 08 Jul 2026, 11:15 PM
সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ঠিক মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আলোচনার পরিবেশকে উত্তপ্ত করে দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে—যা গত সপ্তাহে করা হয়েছিল তার চেয়েও ভয়াবহ হবে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের নির্দেশে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। এই শান্তি আলোচনাটি কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টক-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনার ভিত্তি ছিল একটি সমঝোতা স্মারক, যার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনসহ সকল শত্রুতা সমাপ্ত করা। তবে এই প্রেক্ষাপটে ইরান অভিযোগ করেছে যে ওয়াশিংটন লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুক্তিতে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়ে হবে না। শান্তি বৈঠকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা মুখোমুখি হন। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লেবাননের সহিংসতা কিছুটা হালকাভাবে দেখার চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে সেখানে যুদ্ধ বন্ধের পথে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "এই ধরনের বিষয়গুলো সব সময়ই কিছুটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ হয়।" যদিও গত শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, বাস্তবে কোনো শান্তি দেখা যাচ্ছে না। শনিবার ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে টানা চার মাস এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে এক বিশাল বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা এই প্রণালী পুনরায় বন্ধ হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের ঘোষণার পর মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার সংকেত চালু রেখে প্রণালী পার হয়েছে, যেখানে গত কয়েক দিনে বহু জাহাজ চলাচল করছিল। ইরান আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্থনৈতিক সুবিধা না দেওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের কোনো আলোচনা শুরু হবে না। আলোচনার ফাঁকে জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গনের সময় ভ্যান্সকে 'হোয়াটস আপ ম্যান?' বলে সম্বোধন করেন, যার জবাবে আসিম মুনিরও উইটকফকে আলিঙ্গন করে 'মাই ব্রাদার' বলে সম্বোধন করেন।।
চীন সফর শেষে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক যাত্রা