Published : 08 Jul 2026, 11:50 PM
রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই আকস্মিক ঘোষণার ফলে গত সাত বছরে ব্রিটেন ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে পৌঁছেছে। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে স্টারমার এই সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, 'আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত কিনা, সেই প্রশ্নটি এখন আমার দলের সামনে তুলছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সংসদীয় দলের সেই প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়েছি এবং আমি তা সম্মানের সাথে মেনে নিচ্ছি। ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখা। এই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আজ সকালে আমি মহামান্য রাজাকে আমার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।' বক্তব্য শেষ করার সময় স্টারমার কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাঁর স্ত্রী লেডি ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবার আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দিতে চাই। আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিকের জন্য সেরা স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব। একইসঙ্গে আমার গর্ব ও আনন্দের উৎস—সন্তানদের জন্য আরও ভালো বাবা হয়ে উঠতে চাই।' স্টারমারের এই ঘোষণার পর সবার দৃষ্টি এখন লেবার পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দলের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে নাকি কোনো পছন্দের ব্যক্তিত্বকে সরাসরি দলনেতা ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য তিনি দলকে অনুরোধ করবেন এবং আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হতে পারে। তাঁর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাবে। স্টারমার আরও বলেন, 'ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হলে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন পুনরায় চালু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন পর্ব সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।' তিনি নিশ্চিত করেন যে পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বড় জয়ের পর লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম দাবিদার এবং দলের 'স্বাভাবিক উত্তরসূরি' হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও মেলেনি। দলের অন্য কোনো প্রবীণ নেতাও এই দৌড়ে শামিল হতে পারেন। এই নেতৃত্ব বদলের প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ব্রিটিশ সরকারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত জনমত সমীক্ষায় লেবার পার্টি যদি পিছিয়ে থাকে, তবে এই জটিলতা আরও বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত বার্নহ্যামের পক্ষে দলের কতটা সমর্থন একাট্টা হয়, তার ওপর নির্ভর করছে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হবে, নাকি সরাসরি তাকেই দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।।
চীন সফর শেষে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক যাত্রা