Published : 09 Jul 2026, 03:19 AM
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ঘিরে তীব্র বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক স্থানীয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আজ শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। এই সময়ে তাঁর ভাই, অন্যান্য আত্মীয় এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অভিভাবক সদস্যদের নির্বাচন সংক্রান্ত সভায় কিছু অভিভাবকের নাম পরিবর্তিত হয়। এরপর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ২১ জুন বেলা আড়াইটার দিকে হারুনুর রশিদ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন এবং নির্বাচনের কাগজপত্র দেখতে চাইলেন। তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা হলে তিনি আপত্তি জানান। এর ফলস্বরূপ, হারুনুর রশিদ তাঁকে পায়ের জুতা খুলে গালে আঘাত করেন এবং হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমি একজন শিক্ষক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অপমানজনক ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। চিকিৎসার পাশাপাশি আমি ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং তার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও জমা দিয়েছি। আমাকে এই ঘটনাটি চাপা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
” অন্যদিকে, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, "ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কিছু অভিভাবকের আপত্তি ছিল, যা নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।” আক্কেলপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি অবগত এবং প্রধান শিক্ষক কর্তৃক থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। যেহেতু ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগ করেছেন, তাই তাঁর পক্ষ থেকে আর কিছু করার নেই। আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর পথে: দুবাই পুলিশের দাবি- দুদকের তথ্য প্রস্তুত করছে