Published : 09 Jul 2026, 06:30 AM
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মায়ের বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো। তিনি অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। এই সন্তানের মধ্যে চারজনের মধ্যে কিছু মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে, যার মধ্যে চারজনই জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণ হারান। চিকিৎসকদের মতে, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম এবং কম ওজনের কারণে এই জটিলতা দেখা দেয় এবং দুর্ভাগ্যবশত কিছু শিশু মারা যায়। হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে এই পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। তাদের মধ্যে তিনজন পুত্র এবং দুজন কন্যা। বর্তমানে এই পাঁচ সন্তানের মধ্যে একজন জীবিত রয়েছে।
এই শিশুরা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান (ডলার) এবং চাঁদনী বেগমের সন্তান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে চাঁদনী বেগম (২২) ও মাহামুদুল হাসানের বিবাহ হয়। গর্ভধারণের সময়ই তারা জানতে পারেন তাদের গর্ভে পাঁচ সন্তানের রয়েছে। নিয়মিত তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেন। হঠাৎ জটিলতা দেখা দেওয়ায় চাঁদনীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে স্বজনেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম শিশুর জন্ম হয় এবং মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে বাকি চারটি শিশু জন্ম নেয়।
এই শিশুরা সাত মাসের কম বয়সে অস্ত্রোপচার ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে এবং তাদের ওজন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে ছিল। নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী জানান, জন্মের পর পাঁচটিই শিশু জীবিত ছিল। এই শিশুরা অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে (এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট) এবং তারা নবজাতক পরিচর্যার জন্য নিবিড় যত্নের (এনআইসিইউ) দাবিদার। তবে ফরিদপুরে পর্যাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র না থাকায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে জীবিত শিশুটি হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটায় ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানান, বর্তমানে একটিমাত্র পুত্রশিশু জীবিত আছে এবং সে অক্সিজেন দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে।।
অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত