Published : 09 Jul 2026, 09:06 AM
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের অধীনে সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয়ের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সাথে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা দিয়ে গাড়ি কেনার সুযোগও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল লক্ষ্য হলো সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগ এই নির্দেশনা সম্বলিত একটি নতুন পরিপত্র প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে, দশ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই শর্তে কিছুটা শিথিলতা থাকবে। নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা সম্ভব হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজের জন্য মোটরযান ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপিত বা নতুন কেনা জিপ বা কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক যান (এফইভি) হতে হবে।
এছাড়াও, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদানও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সরকারি অর্থায়নে অনুষ্ঠিত সকল ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে, বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা যাবে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশ থেকে প্রাপ্ত স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ অনুমোদিত। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যেতে পারে। পিএসআই (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) বা এফএটি (ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট)-এর ক্ষেত্রে, যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা অর্থ মন্ত্রণালয় দিয়েছে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে, চলমান নির্মাণ কাজ যদি ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে তা শেষ করা যেতে পারে।
পরিচালন বাজেটের অধীনে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। কিন্তু উন্নয়ন বাজেটের অধীনে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। অর্থ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে থোক বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে 'বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা' খাতে সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যেতে পারে। যদিও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে, তবুও এই পরিপত্র জারির পূর্বে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য। অর্থ মন্ত্রণালয় সকল ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা 'মূল্যের ভিত্তিতে মান' (ভ্যালু ফর মানি) নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত