Published : 10 Jul 2026, 07:02 PM
জীবিকা অর্জনের তাগিদে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে মো. তুহিনুজ্জামান (৩৪) সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁর ঠিকানা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, স্বপ্ন পূরণের আগেই কর্মস্থলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁকে জীবনাবসানে বাধ্য হয়। মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর দেশে ফিরে আসে তাঁর মরদেহ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুহিনুজ্জামানের দেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় শেষকৃত্যের পর মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাঁর নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন এবং বহু মানুষ উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। তুহিনুজ্জামান স্বপ্ন দেখেছিলেন, আর কিছুদিনের কষ্ট করলেই সংসারের সকল অভাব দূর হবে এবং সন্তানদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তিনি চিরতরে হারিয়ে যান। ফরিদা খাতুন, তুহিনুজ্জামানের স্ত্রী, পরিবার সূত্রে জানান, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গত বছরের শুরুর দিকে তিনি সৌদি আরবের হাইল শহরে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যান, যেখানে তিনি এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতেন। ২০ মে, ওপর থেকে এসি পড়ে গুরুতর আহত হন তুহিনুজ্জামান। স্থানীয় একটি হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ মে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহবাহী কফিন সামনে আসতেই স্ত্রী ফরিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামীর কফিন জড়িয়ে বিলাপ করতে থাকেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু সে সেই কথা রাখতে পারল না।
এখন আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।’ তুহিনুজ্জামান মা-বাবা, স্ত্রী ফরিদা খাতুন, আট বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া খাতুন তামান্না এবং দুই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাওসীফকে রেখে গেছেন। তাঁদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তুহিনুজ্জামান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পূর্বে বিদেশে কাজ করলেও আর্থিকভাবে উন্নতি করতে পারেননি। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি ঋণ করে আবারও সৌদি আরবে যান। কিন্তু ঋণের বোঝা কমানোর আগেই দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়।।
অবিরাম বৃষ্টিতে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র স্থগিত: ১৫ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা