Published : 11 Jul 2026, 02:15 AM
চলতি সপ্তাহে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ইসরায়েল ও মিশরের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, গাজা উপত্যকার জটিলতা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকগুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'ক্যান নিউজ' জানিয়েছে, যদিও গাজা যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান, তবুও এই আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশরের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধ পরবর্তী ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণে মিশর যে ভূমিকা নেবে, তা নিশ্চিত করা। আলোচনার এক ব্যতিক্রমী দিক হলো, সফরকালে ইসরায়েলি ও মিশরীয় কর্মকর্তারা একসঙ্গে বিশ্বকাপে মিশর বনাম আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন। এই কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেও দুই দেশের মধ্যে ব্যক্তিগত সংযোগ এবং সাধারণ মুহূর্তের প্রতিফলন ঘটে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও মিশরের সম্পর্ক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সুদৃঢ়।
তবে গাজায় চলমান ভয়াবহ গণহত্যার কারণে মিশরের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মিশর আশঙ্কা করছে, এই পরিস্থিতি তাদের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ক্যান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গাজায় মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে মিশরের ভূমিকাকে আরও জোরালো করা। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হামাসের বিরুদ্ধে মিশরের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এমনকি হামাসকে অস্ত্র ত্যাগের জন্য মিশরীয় কর্মকর্তারা একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন। এই আলোচনার সময় হামাস ঘোষণা করে যে তারা গত দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তাদের সরকারি কমিটি বিলুপ্ত করছে। হামাসের সরকারি মুখপাত্র ইসমাইল আল-থাওয়াবতা এএফপি-কে জানান, 'সরকারি জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা'-এর প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই 'ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা' (এনসিএজি) হলো ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ বা টেকনোক্র্যাটদের একটি দল, যারা যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির অধীনে গাজার দৈনন্দিন বিষয়গুলো তদারকি করবে। যদিও এই কমিটি এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং বর্তমানে কায়রো থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১,০৯২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে গাজায় মোট ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।।
অবিরাম বৃষ্টিতে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র স্থগিত: ১৫ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা