Published : 13 Jul 2026, 08:16 PM
গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরী এক ভয়াবহ জলমগ্নতার শিকার হয়েছে। বিশেষত সোমবার সকালের মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণের ফলে শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে জলের নিচে তলিয়ে গেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও হাজার হাজার পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হন এবং এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় রেকর্ড পরিমাণ ১৩৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায়ই ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রধান তিনটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র—কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ—এ কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা নৌকায় করে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
বহু শিক্ষার্থী হাঁটুসমান জল পেরিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। এছাড়া, সড়কে অটোরিকশার তীব্র সংকট থাকায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কারণ আকস্মিক বৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক স্থগিতের সুযোগ ছিল না। জলমগ্নতার প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়ির নিচতলার দোকান ও বাড়িগুলিতে জল ঢুকে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের নিচতলা প্লাবিত হওয়ায় সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। এমনকি ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের কবি নজরুল হলের ছাত্রাবাসে পচা জল ও দুর্গন্ধের কারণে সাপ ঢুকে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
দৌলতপুর এলাকার মুদি দোকানি ফেরদৌস আলম জানান, 'ভোররাতের টানা বৃষ্টিতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানে জল ঢুকে মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।' কুমিল্লা আবহাওয়া উপকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং এই তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি রয়েছে এবং আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলমগ্নতা নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগে সিটি করপোরেশন সামাজিক মাধ্যমে সমালোচিত হয়েছে। যদিও প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকেকে পাওয়া যায়নি, তবে করপোরেশনের অফিসিয়াল পেজে জানানো হয়েছে যে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।।
অ প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও এইচএসসি পরীক্ষা চলবে; জেলা প্রশাসন নেবে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত