Published : 19 Jul 2026, 03:13 AM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি। দীর্ঘ একুশ দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় সময় শনিবার জোহরের নামাজ শেষে ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে তাঁকে নিউ জার্সিতে দাফন করা হবে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন ভোর ৪টার দিকে নিউইয়র্ক শহরের জ্যামাইকার ১৭২-১২ ৯১ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত একটি ব্যক্তিগত আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে। সোহাগের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায়। নিহতের মামাতো ভাই মোহাম্মদ ফয়েজ প্রথম আলোকে জানান, সোহাগ ভাই জ্যামাইকায় একটি বেজমেন্টে সপরিবারে থাকতেন।
সেখান থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ ছিল একটি। সেখানে কোনো অগ্নি-সতর্কতা ব্যবস্থা বা ফায়ার অ্যালার্মও ছিল না। ফয়েজ বলেন, আগুন লাগার পর সোহাগ নিজেই আগুন ঠেলে প্রধান দরজা দিয়ে বের হন। এরপর তিনি বাইরে থেকে আগুনের কাছাকাছি থাকা একমাত্র জানালা ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা স্ত্রী ঝরনা আক্তার এবং দুই শিশুসন্তান জিহাদ ও জুবায়েরকে একে একে উদ্ধার করেন। সোহাগের পারিবারিক বন্ধু জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোহাগের পরিবার সাত-আট মাস আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তিনি পেশায় সাইকেল ডেলিভারিম্যান ছিলেন এবং সাধারণত সাইকেলের ব্যাটারি চার্জ দিয়ে ঘুমাতেন। সকলের ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত ওই ব্যাটারির বিস্ফোরণ থেকেই এই ভয়াবহ আগুন শুরু হয়। নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহযোগিতা ৯১১ নম্বরে একটি দুই তলা ব্যক্তিগত বাসভবনের বেজমেন্টে আগুনের খবর আসে।
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধারকাজে মোট ৭৯ জন দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা (ইএমএস) কর্মী অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে উদ্ধার করে ইএমএস কর্মীরা দ্রুত নাসাউ কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যান। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়ির অভ্যন্তরে যেখানে আগুন লেগেছিল, সেখানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি পোড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।।
শাপলা চত্বরের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্য