Published : 20 Jul 2026, 10:14 PM
গত বছর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি ৩০টিরও বেশি জরুরি সংস্কারের সুপারিশ করেছিল। এই সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল ভবন নির্মাণের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, সামরিক বিমান প্রশিক্ষণের এলাকা পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে বিমানবন্দরের 'অ্যাপ্রোচ জোন' থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তদন্ত কমিশন এই বিপর্যয়কে কেবল বিমান চালকের ভুলের ফল হিসেবে নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ নগর পরিকল্পনা, প্রশাসনিক ত্রুটি, আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা, দুর্বল তদারকি এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করার সম্মিলিত পরিণাম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দুর্ঘটনার অনেক আগে থেকেই ওই স্থানে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান দ্বিতীয় সার্কিটে প্রবেশ করার সময় উচ্চতা হারায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে।
এর ফলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ ৩৫ জন প্রাণ হারান। সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খানের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশন এবং তৎকালীন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে কারিগরি কমিটি গত বছরের নভেম্বরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রাপ্ত ১৮৫ পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ বিমান চালকের ভুল হলেও ক্ষতির ব্যাপকতার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, রাজউক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা দায়ী। বিপজ্জনক ভবন ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তে স্কুলের অবকাঠামো সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার সময় তিন তলা ভবনটিতে শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কিন্তু জরুরি নির্গমনের জন্য মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল। ফায়ার সার্ভিসের মতে, এমন ভবনে কমপক্ষে তিনটি জরুরি বহির্গমন পথ থাকা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পর্যাপ্ত পথ থাকলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো যেত। তদন্তে আরও দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের ১৭টি ভবনের মধ্যে মাত্র সাতটির বৈধ অনুমোদন রয়েছে। বাকি ভবনগুলো হয় অনুমোদনহীন অথবা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদনের কথা বললেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজউক এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিস্তারিত তথ্য আসছে....।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভ্রমণ ও বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করল সরকার