Published : 22 Jul 2026, 10:13 AM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী কিয়ার স্টারমারের নীতিকেই বহাল রাখেন। জানা গেছে, মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য স্টারমার এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকে মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে ভারত মহাসাগর এবং ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিগুলো আগের মতোই ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালাতে পারবে। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহ্যাম এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করে তথ্য দিয়েছেন।
তারা আরও নিশ্চিত করেছেন যে চলমান মার্কিন হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা যাবে। এই আগ্রাসী পদক্ষেপের দশ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত রাতে তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। স্টারমারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে কঠিন ছিল। একদিকে ব্রিটিশ বামপন্থীদের চাপ ছিল ঘাঁটি ব্যবহারের বিরোধিতা করতে, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করার চাপ ছিল। ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো আকস্মিক হামলায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত বামঘেঁষা গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে, যারা মনে করে এই অনুমতি দেওয়ার অর্থ যুক্তরাজ্যকেও পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের অংশীদার করে তুলবে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখার পর ট্রাম্পের মুখে বার্নহ্যামের প্রশংসা এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা থাকতে পারে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ফোনালাপ নিয়ে ট্রাম্পও তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে উত্তর সাগর, বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ফোনালাপটি চমৎকার ছিল।।
আদালতে বিচার চলাকালীন বিচারকের উন্মত্ত কাণ্ডে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মাথায় পেপারওয়েট আঘাত